নয়াদিল্লি: বাংলাদেশি-রোহিঙ্গা শনাক্ত করে আটক-কেন্দ্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। সেই আবহেই ‘অস্বাভাবিক’ জনবিন্যাস বদল খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি তৈরি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানিয়েছেন, বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য ‘অস্বাভাবিক’ কারণে যে হারে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি। জনবিন্যাস বদলকে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং জনজাতি সমাজের সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করলেন তিনি। (Demographict Shift Committee)
মঙ্গলবার এই ঘোষণা করলেন শাহ। মাইক্রোব্লগিং সাইট X-এ তিনি জানান, গতবছর স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওই কমিটি গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই মতোই কমিটি গড়া হল। তাঁর বক্তব্য, ‘অনুপ্রবেশ এবং অন্য কার্যকারণগুলি অস্বাভাবিক রকম ভাবে জনবিন্যাস বদলে দিচ্ছে, যা যে কোনও দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকির মোকাবিলা করতে ২০২৫ সালের ১৫ অগাস্ট নরেন্দ্র মোদিজী জনবিন্যাস নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গড়ার ঘোষণা করেছিলেন। আনন্দ সহকারে জানাচ্ছি, ওই কমিটি গড়ে ফেলেছে সরকার’। (Amit Shah on Demographic Shift)
घुसपैठ और अन्य कारणों से Unnatural Demographic Change किसी भी राष्ट्र के वर्तमान व भविष्य के लिए एक बहुत बड़ी चुनौती है।
इसी चुनौती से निपटने के लिए 15 अगस्त 2025 को प्रधानमंत्री @narendramodi जी ने ‘High-Level Committee on Demographic Change’ की घोषणा की थी। मुझे बताते हुए हर्ष…
— Amit Shah (@AmitShah) May 26, 2026
আরও পড়ুন: রাহুল গাঁধীর নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি, দাবি সাংসদ পদও খারিজেরও, পিটিশন জমা পড়ল
শাহ জানিয়েছেন, উচ্চ পর্যায়ের ওই কমিটির মাথায় থাকছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাবকর নাওলেকর। জনগণনার দায়িত্বে থাকা কমিশনার, অবসরপ্রাপ্ত IAS অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, অবসরপ্রাপ্ত IPS অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যা ডঃ শমিকা রবি কমিটিতে থাকছেন। সচিবের ভূমিকা পালন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (বিদেশি) বিভাগের যুগ্মসচিব।
আরও পড়ুন: ইজ়রায়েলকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে চাপ! ট্রাম্পের আশায় জল ঢেলে দিল পাকিস্তান
জনবিন্যাস বদল নিয়ে শাহ লেখেন, ‘জনবিন্যাস বদল একটি গুরুতর সমস্যা, যা শুধু আমাদের সার্বভৌমত্বই নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামোর গভীর পরিবর্তন, জনজাতি সমাজের সুরক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। বেআইনি অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে গোটা ভারতে জনবিন্যাস বদলের মূল্য়ায়ন করবে এই কমিটি,। ধর্মীয় এবং সামাজিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক স্থানান্তরণ বিশ্লেষণ করবে। সেই মতো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের সুপরিকল্পিত রূপরেখা তুলে ধরবে এই কমিটি’।
জনবিন্যাস বদল নিয়ে বার বার মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেও গেরুয়া শিবিরের নেতাদের মুখে বার বার শোনা গিয়েছে অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের কথা। পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার পর, অসমের বন্দিশিবিরের মতোই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজে হাত দিয়েছে বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। আদালতকে এড়িয়ে অনুপ্রবেশকারীদের আটক-শিবিরে পাঠানো নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। ফলে শাহের ঘোষণায় বিতর্ক আরও জোর পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।