পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০৪৭ সালের উন্নয়ন লক্ষ্যে পৌঁছতে সহায়ক হতে পারে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের অগ্রাধিকারও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।
তিনি মন্ত্রীদের বলেন, প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করা এবং “সহজ জীবনযাপন” নিশ্চিত করা। পাশাপাশি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে সরকারের হস্তক্ষেপ যেন ন্যূনতম থাকে, সেই দিকেও জোর দেন তিনি।
এদিন ছিল এ বছরের প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বৈঠক৷ পাঁচ দেশের বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা।
এটাই ছিল চলতি বছরের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠক। বৈঠকে মধ্য এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বিকল্প জ্বালানির উৎস খুঁজে দেখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি যাতে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছয়, সেই বিষয়েও মন্ত্রীদের নির্দেশ দেন তিনি। সূত্রের খবর, অতীতের সাফল্য নিয়ে না ভেবে ভবিষ্যতের লক্ষ্য পূরণে মনোযোগ দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি মন্ত্রীদের মনে করিয়ে দেন, ২০১৪ সাল থেকে সরকার ক্ষমতায় থাকলেও ২০২৬ সালে মূল ফোকাস হওয়া উচিত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রশাসনিক কার্যকারিতা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন।
সরকারি কাজকর্মে কোনও ধরনের দেরি যেন না হয়, সে বিষয়েও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। বিদেশ সফর নিয়ে ব্রিফিং দেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর৷ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর নিয়ে একটি উপস্থাপনা করেন। সফরে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি সফর করেন।
বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের নয়জন সচিব তাঁদের নিজ নিজ বিভাগের কাজ ও উদ্যোগ নিয়ে রিপোর্ট পেশ করেন। কিছু উপস্থাপনায় মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম দু’বছরের কাজের খতিয়ানও তুলে ধরা হয়।
ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমানাথন প্রশাসনিক সংস্কার এবং নাগরিকমুখী উদ্যোগ নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন। রাজীব গৌবাও বৈঠকে বক্তব্য রাখেন।
এর আগেও প্রধানমন্ত্রী আগামী দশকের সংস্কার কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরে বলেছিলেন, সরকারের “রিফর্ম এক্সপ্রেস” সাধারণ মানুষের উপকারে এসেছে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এনেছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভাল ফল এবং পুদুচেরিতে এনডিএ-র পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পরপরই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হল।