সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং যত দ্রুত সম্ভব সংসদে পেশ করার কথা বলেন। আগামী সোমবার লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে।
বর্তমান পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪-এর তুলনায় নতুন সংশোধনীতে শাস্তির মাত্রা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
ন্যূনতম কারাদণ্ড ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ কারাদণ্ড ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে।
সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
যে সব সংস্থা বা সার্ভিস প্রোভাইডার পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব রয়েছে।
সর্বোচ্চ ৫ কোটি পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। ৮ বছর পর্যন্ত কোনও সরকারি পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। বর্তমানে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ৪ বছর।
এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিচালক বা শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষা জালিয়াতি করলে আরও কঠোর শাস্তি হবে। সেক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং কমপক্ষে ১০ কোটি জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে।
তদন্ত দ্রুত শেষ করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে মামলার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছেও হস্তান্তর করা যাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রতিটি মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে।
প্রতিটি রাজ্যে হবে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করতে হবে, যেখানে শুধুমাত্র এই আইনের আওতায় হওয়া মামলাগুলির বিচার হবে।
প্রতিদিন শুনানি চালাতে হবে। চার্জশিট দাখিলের তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিচারাধীন মামলাগুলিও এই বিশেষ আদালতে স্থানান্তর করা হবে এবং যে পর্যায়ে রয়েছে, সেখান থেকেই বিচার শুরু হবে। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি ও দ্রুত আপিলের ব্যবস্থা
প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (Special Public Prosecutor) নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া, বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করা যাবে। সেই আপিলও তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করা হবে।
সরকারের বক্তব্য, এই সংশোধনীর মূল লক্ষ্য হল সরকারি পরীক্ষার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা আরও শক্তিশালী করা এবং প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।