মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমার হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে। সেটাই হল ভেটো।’’ প্রতিনিধি পরিষদ বা সেনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তাঁকে ‘মিস্টার ভেটো’ বলা হলেও আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, আগামী দু’বছর নিজের নীতি ও কর্মসূচি কার্যকর করার যথেষ্ট সুযোগ পাবে তাঁর প্রশাসন।
মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের খারাপ ফলের পূর্বাভাস দিচ্ছিল একাধিক সমীক্ষা। বিশেষ করে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে ট্রাম্পের দলের। যদিও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক কয়েকটি সুপ্রিম কোর্টের রায় প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে। ফলে কংগ্রেসে বিরোধীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারবেন তিনি।
‘প্রেসিডেন্টের হাতে এখন অনেক বেশি ক্ষমতা’
এই প্রসঙ্গে ‘ট্রাম্প বনাম স্লটার’ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। ওই মামলায় ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)-র সদস্য রেবেকা স্লটারকে পদ থেকে সরানোর অধিকার পেয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ৬-৩ ভোটে দেওয়া ওই রায়কে নিজের প্রশাসনের বড় জয় হিসাবেই দেখছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘স্লটার মামলায় আমরা জিতেছি। এই রায়ের ফলে প্রেসিডেন্ট এমন বিপুল ক্ষমতা পেয়েছেন, যা আগে কখনও ছিল না।’’
আগামী দিনে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই রায়ের ভিত্তিতে আরও পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আমাদের প্রেসিডেন্সিকে শক্তিশালী প্রেসিডেন্সি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। অনেক কিছুই করা সম্ভব।’’
ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তাঁর নীতিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভেটো প্রয়োগ করে বিরোধীদের আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করবেন বলেও মনে করছেন ট্রাম্প। তাঁর যুক্তি, ‘‘ঐতিহাসিক ভাবে দেখা গিয়েছে, কয়েক মাস ভেটো প্রয়োগ করার পরেই ওরা এসে বলে, আমাদের একটা সমঝোতায় পৌঁছতে হবে।’’
হোয়াইট হাউসে নতুন নির্বাহী পদক্ষেপের আলোচনা
সিবিএস নিউজের সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে হোয়াইট হাউসে আরও কিছু নির্বাহী পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং অফিস অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের ডিরেক্টর রাসেল ভটের। অভিবাসন, বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রীয় সরকারি ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির দাবি, মিডটার্মে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা পেলেও আগামী বছর বাণিজ্য, সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদেশনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়ে নিজের পছন্দমতো পদক্ষেপ করার ক্ষমতা থাকবে প্রেসিডেন্টের হাতে।
‘আমরা লজ্জায় পড়ব না’
নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের হয়ে দেশজুড়ে প্রচারেও নেমেছিলেন ট্রাম্প। নিজের প্রচার কর্মসূচির সাফল্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি। তাঁর দাবি, এক মাস আগেও রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু এখন লড়াই অনেকটাই হাড্ডাহাড্ডি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘‘৩০-৪০ দিন আগে সকলে বলছিলেন, আমরা বড় ব্যবধানে হারব। এখন অনেকে বলছেন, আমরাও জিততে পারি।’’ তাঁর দাবি, ২৯ দিনে ৩৩টি বড় জনসভা করেছেন তিনি। সেই প্রচার রিপাবলিকানদের সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
গত বছরের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ এবং প্রশাসনের বাণিজ্যনীতির কারণে অর্থনীতির একাধিক ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। যদিও নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের জেতার ভাল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমরা লজ্জায় পড়ব না।’’
জর্জিয়া, ভার্জিনিয়ায় সেনেটের আসন ধরে রাখল ডেমোক্র্যাটরা
অন্য দিকে, সেনেট নির্বাচনে জর্জিয়া এবং ভার্জিনিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জর্জিয়ায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন সেনেটর জন অসফ। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসাবেও তাঁর নাম আলোচনায় রয়েছে।
ভার্জিনিয়াতেও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সেনেটর মার্ক ওয়ার্নার। তবে জর্জিয়ার এই জয় ১০০ আসনের সেনেটে ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনও পরিবর্তন আনছে না। তবুও ডেমোক্র্যাট শিবিরের কাছে এই ফল রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।