Last Updated:
East Medinipur News: সাধারণত হনুমান শান্ত প্রকৃতির হলেও, এটি ছিল অত্যন্ত মারমুখী। বাড়ির বাইরে বেরোলেই পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিল সেটি। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই রয়েছেন। ভয়ে ঘরের দরজা-জানলা বন্ধ করে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েন এলাকাবাসী।
হলদিয়া, সৈকত শী: সকালে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল একটি বিশালাকায় হনুমান। আর তারপরেই শুরু হয় উন্মত্ততা। হনুমানের কামড় ও নখের আঁচড়ে রক্তাক্ত হয় অন্তত ১৫ জন গ্রামবাসী। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের গেঁওয়াডাব পশ্চিম-মধ্যম পল্লী এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ছড়ায়। দিনভর রুদ্ধশ্বাস নাটকের পর বন দফতরের জালে ধরা পড়েছে সেই হনুমান। এদিন সকাল থেকেই এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে ওই হনুমানটি। সাধারণত হনুমান শান্ত প্রকৃতির হলেও, এটি ছিল অত্যন্ত মারমুখী।
বাড়ির বাইরে বেরোলেই পথচারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিল সেটি। এই হিংস্র হনুমানের আক্রমণে আক্রান্ত পুরুষ ও মহিলা উভয়ই। এমনকি এলাকার ছোট বাচ্চারাও আক্রান্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ভয়ে ঘরের দরজা-জানলা বন্ধ করে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর তৎপরতায় এক সময় হনুমানটি স্বপন মান্না নামে এক ব্যক্তির বাড়ির একটি ঘরে ঢুকে পড়লে বাইরে থেকে সেটিকে আটকে দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সুতাহাটা হলদিয়া বিজ্ঞান কেন্দ্রের কোষাধ্যক্ষ তথা শিক্ষক অনুপ কুমার পাঁজাকে।
তাঁর মাধ্যমেই খবর পৌঁছায় বন দফতরে। শেষ পর্যন্ত বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকাজে বিশেষ সহযোগিতা করেন এলাকার ‘স্নেক ম্যান’ তথা প্রাণী বন্ধু নকুলচন্দ্র ঘাঁটি। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর জাল ও খাঁচা ব্যবহার করে হনুমানটিকে কব্জা করা সম্ভব হয়। বন দফতর সূত্রে জানা যায়, হনুমানটি আহত ছিল। তাই এত হিংস্র হয়ে উঠেছিল, কীভাবে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সেটিকে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে। বন দফতরের এই দ্রুত পদক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন হলদিয়ার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে অনুপ কুমার পাঁজা বলেন, সকাল থেকেই হনুমানটি তাণ্ডব চালিয়েছিল এলাকায়। হিংস্র হনুমানের তাণ্ডবে আহত হয় এলাকার ১৫-১৬ জন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মারফত আমাদের কাছে খবর আসে। যোগাযোগ করা হয় বন দফতরে। হলদিয়া সুতাহাটা বিজ্ঞান মঞ্চ ও বন দফতরের কর্মীদের প্রচেষ্টায় খাঁচা বন্দি করা হয় হনুমানটিকে।” বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে বন দফতরের খবর দেওয়াটাই সঠিক কাজ, যা এদিন গ্রামবাসীরা করেছেন। হনুমানটি খাঁচাবন্দি হতেই এলাকায় স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে আসে। তবে আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
Purba Medinipur,West Bengal
East Medinipur News: সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই তাড়া করছে হিংস্র হনুমান, তাণ্ডবে কমপক্ষে ১৫ গ্রামবাসী আক্রান্ত! ভয়ে থরথর করে কাঁপছে গোটা গ্রাম