মাল্টিসেল হলে ওয়াইড স্প্রেড জায়গাতে বজ্র বিদ্যুতের দাপট প্রচণ্ড হয়৷ সুপার সেল হলে একই জায়গাতে হয়৷ এটা অনেকটা উল্লম্ব হয়৷ ক্লাউডবার্স্টের আগেই এই বজ্র বিদ্যুৎ হয়৷ কলকাতায় হয়েছিল মাল্টি সেল থান্ডারস্টর্ম৷ তাই অনেক জায়গায় ছড়িয়ে হয়েছে৷
এটা প্রথমত কোন এলাকায় হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে৷ ওয়াইড স্প্রেড হলে অনেকটা এলাকা জুড়ে ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ছে৷ এই কারণেই কাল কলকাতায় ওত বেশি বজ্রপাত হয়েছে৷
বজ্রপাত রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে রেকর্ড হয়৷ এছাড়া কেউ চাইলে গুনতেও পারেন৷ রেডিও সিগন্যাল কিন্তু অনেক দূরেরটাও পেয়ে যায়৷ র্যাডারে যেটা আসছে না, কানে যেটা শোনা যাচ্ছে না সেটাও এই পদ্ধতিতে ধরে নেওয়া সম্ভব হয়৷
বৃহস্পতিবারের বাজ পড়া ও ঝড় বৃষ্টি যেটা মাল্টিসেল থান্ডার স্টর্ম, এটা কালবৈশাখীর ধরণের মতো নয়, এটা এলাকাভিত্তিক তৈরি হয়ে সেখান ঝড়-বৃষ্টি বাজ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে৷
কালবৈশাখী হলে সেটা বাংলাদেশ বা রাঁচিতে উৎপন্ন হয়ে কলকাতায় তাণ্ডব করতে আসে আর বৃহস্পতিবার মাল্টিসেল ওয়াইড স্প্রেড ঝড়টি উত্তরবঙ্গ-দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশ জুড়ে তৈরি হয়েছিল৷
যদি এই বিস্তৃত এলাকার সিগন্যাল ধরা হয় তাহলে ৪০০-র বেশি কাউন্ট হবে৷ রেডিয়েশানাল বেলুনেই এটা পর্যবেক্ষণ করে বলে দিয়েছে৷ বিআরএন নম্বর দিয়ে এটা জানা যায়৷ বিআরএন নম্বর যদি ১০-র থেকে কম হয় তখনই তাকে সুপার সেল বলা হয়৷ বিআরএন যদি ১০-র থেকে বেশি হয় তাহলে তাকে মাল্টিসেল বলা হয়৷ সেটা কাল ১২৫ হয়েছে৷ তাহলে এটা একেবারে মাল্টিসেল৷
কাল সবজায়গাতেই মাল্টিসেল দেখা গেছে৷ ক্লাউড হাইট গড়ে ১২ -১৪ কিমি৷ ছোট ছোট স্পেলে বেশিরভাগ জায়গাতেই এই ১২ – ১৪ কিমি পর্যন্ত উচ্চতার এই মেঘের উচ্চতা থেকে হয়েছে ঝড় বৃষ্টি৷ এর ফলে উত্তর থেকে দক্ষিণ সমস্ত জায়গাতেই ছড়িয়ে পড়েছে৷
ঘামের ভাবটা যখনই বেশি হবে, শুধু কলকাতার ওপর হলে শুধু কলকাতাতেই হত আর এটা যেহেতু দুই বাংলা জুড়ে পরিস্থিতি ছিল তাই দুই বাংলাতেই হয়েছে৷ প্রচুর পরিমাণে বাতাসে জলীয় বাষ্প চলে এসেছে৷ দুটো কারণে এটা হয়েছে একটা নিম্নচাপ জলীয় বাষ্প টেনেছে৷ মৌসুমী বায়ু সক্রিয় হওয়াতেও প্রচুর জলীয় বাষ্প এসেছে৷ এই দুই কারণে ময়েশ্চার প্রচুর বেড়ে গেছে তাই এইটা হয়েছে৷
মঙ্গলবারের ৫৯.৩ মিমি বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবাররে বাজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃষ্টিও ছাপিয়ে গেল৷ এদিন কলকাতায় ২ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়৷ এদিনের এই তোলপাড় করা আবহাওয়া নিয়ে আবহবিদদের একটা অংশ যেমন ডবল জলীয়বাষ্পের চাপকে গেমচে়ঞ্জার দেখছেন ঠিক তেমনিই সেই ঝাঁঝে বাড়তি চাপ দিচ্ছে মাটির সঙ্গে সমান্তরালে হালকাভাবে বয়ে যাওয়া বায়ুর কারণে পুরো পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে৷
অতি দ্রুত বজ্রগর্ভ কিউমুলোনিম্বাস মেঘের সঞ্চার হয়৷ এরপর উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবল বেগে উঠে যাওয়ার ফলে আরও বজ্র সঞ্চারের পরিস্থিতি তৈরি হয়৷
এদিকে এত বজ্রপাত বাড়ছে কেন প্রশ্নের উত্তরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ফর ট্রপিক্যাল মিটিওরোলজির -র গবেষক এস ডি পাওয়ারের মতে, বায়ুমণ্ডলে ভাসমান কণার পরিমাণ বৃদ্ধি , ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং বঙ্গোপসাগর আসা আর্দ্র বায়ুর সর্বক্ষণ প্রবাহ৷ এরপর দ্রুত ঘণীভূত হতে সাহায্য করে ধূলিকণা৷
গড় তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বজ্রপাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়৷ কলকাতার বঙ্গোপসাগরের নৈকট্য, তাপমাত্রার বৃদ্ধি, আর বাতাসে ভাসমান কণা এই তিন মিলিয়ে এতটা বজ্রঝড় তৈরি হচ্ছে৷ এই কারণেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বজ্রপাতের সংখ্যা বাড়ছে৷