Last Updated:
Ghatal Master Plan: প্রতি বছরের জল-যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে এবার আগেভাগেই সক্রিয় প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই ঘাটালের মনশুকা, অজবনগর ও দাসপুরের বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলি সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন পুলিশ সুপার। লক্ষ্য, তৃণমূল আমলে থমকে থাকা ভগবতী সেতু চালু করা এবং জনজীবন সুরক্ষিত রাখা।
ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি প্রতি বছরই বর্ষাকালে মানুষের মনে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতি বছর একাধিকবার বন্যার ছোবলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, আর সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে হিমশিম খেতে হয়। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক মহলে বারবার উঠে এলেও তা পূর্ণ রূপ পায়নি। তবে রাজ্য বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হওয়ার পর এবার বন্যা মোকাবিলায় বাড়তি তৎপরতা দেখাচ্ছে বর্তমান সরকার।
বর্ষা শুরুর প্রাক্কালে যাতে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত না হয়, আগেভাগেই ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার ঘাটাল থানায় জরুরি বৈঠক করলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। বন্যার কারণে সাধারণ মানুষের ঘরে জল ঢুকে যায়। কখনও ঘর ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে আবার ছাদের উপর দিনের পর দিন কাটাতে হয় তাদের। বন্যার সময় ডুবে যায় থানা বিভিন্ন স্কুল চত্বর। তবে এবার সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে থাকতে পারেন তার জন্য ব্যবস্থা নিতে চলেছে প্রশাসন। পুলিশ সুপারের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল ও দাসপুরের বিডিও, ঘাটাল বিধানসভার বিধায়ক শীতল কপাট-সহ জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বর্ষায় বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোর সুরক্ষায় আগাম সতর্কতা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি।
কীভাবে বন্যার সময় মোকাবিলা করা সম্ভব, কী কী ব্যবস্থা প্রশাসনের তরফে প্রয়োজন তার খুঁটিনাটি পর্যবেক্ষণ করে দেখেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। বৈঠক শেষ করেই পুলিশ সুপার সরাসরি চলে যান ঘাটালের মনশুকা এলাকায়, যেখানে ঝুমি নদীর উপর নির্মিত ভগবতী সেতুটি পরিদর্শনে করেন তিনি। তৃণমূল জমানায় এই কংক্রিটের সেতুটি তৈরি হলেও সংযোগকারী রাস্তা না থাকায় তা আজও জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য চালু করা সম্ভব হয়নি। সেতুটি দ্রুত চালুর বিষয়েও তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করেন।
এরপরই তিনি ঘাটালের বন্যাপ্রবণ অজবনগর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গরখাই এলাকা ও দাসপুরের সামাট এলাকা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন। বর্ষার সময় এই অঞ্চলগুলো দীর্ঘকাল জলমগ্ন থাকে। সম্প্রতি কোলাঘাটে এক প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বন্যা প্রতিরোধে প্রশাসনকে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশের পরপরই এবং বাজেট বরাদ্দের পরের দিনই জেলা পুলিশ সুপারের এই পরিদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকার পরিবর্তনের পর এটিই নতুন প্রশাসনের প্রথম বর্ষা। তাই কোনও রকম ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোর অবস্থা খতিয়ে দেখে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে পুলিশ প্রশাসন—এমনটাই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
Paschim Medinipur,West Bengal