Last Updated:
স্থানীয়দের অভিযোগ, গর্তটি যে এতটা গভীর এবং বিপজ্জনক, তা তারা বুঝতেই পারেননি৷ গোটা ঘটনার জন্য গ্রেটার নয়ডা অথোরিটিকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা৷
শনিবার বিকেলে যখন গ্রেটার নয়ডার বাসিন্দা সিওয়ান যাদব কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, তিনি দেখেন স্থানীয় একটি পার্কের কাছে মানুষ ভিড় করে রয়েছে৷ কী হয়েছে তা দেখতেই এগিয়ে যান সিওয়ান৷ তখনও তিনি জানেন না তাঁর জন্য কী মর্মান্তিক দুঃসংবাদ অপেক্ষা করে রয়েছে৷ কারণ কিছুক্ষণ আগেই ওই পার্কের কাছে খুড়ে রাখা একটি বড়সড় গর্তের জমা জলে পড়ে গিয়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে৷ ভিড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে গিয়ে সিওয়ান দেখেন, মৃত শিশুটি তাঁরই ৬ বছরের ছেলে অভ্যান সূর্য!
প্রশাসনিক এবং সরকারি কাজে গাফিলতি কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, আরও একবার তা প্রকট হল গ্রেটার নয়ডার এই হৃদয়বিদারক ঘটনায়৷ অভিযোগ, বোরিংয়ের কাজের জন্য মাটি খোড়াখুড়ির পর ওই গর্ত তৈরি হয়েছিল৷ কাজের দায়িত্বে ছিল গ্রেটার নয়ডা অথোরিটি৷ কিন্তু কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওই গর্ত ঘিরে রাখার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি৷ বরং তা খুলে রাখা হয়েছিল৷ বর্ষায় জল জমে সেই গর্তই হয়ে ওঠে মৃত্যুফাঁদ৷ ক্রিকেট খেলতে গিয়ে অসাবধনতা বশত ৬ বছরের অভ্যান ওই গর্তের জলে পড়ে যায়৷
ঘটনার কথা জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন গর্তে নেমে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করে৷ বেশ কয়েক মিনিট পর জলের মধ্যে থেকে অভ্যানের দেহ উদ্ধার হয়৷ যদিও হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়৷ সিওয়ান যাদবের অভিযোগ, প্রশাসনিক গাফিলতির জন্যই নিজের ছেলেকে হারালেন তিনি৷
মর্গের বাইরে নিজের শিশুপুত্রের দেহের অপেক্ষায় থাকা সিওয়ান এনডিটিভি-কে বলেন, ‘প্রশাসনের গাফলতির জন্য আমার ছেলের প্রাণ গেল৷ এটা ঠিক নয়৷ ও তো এখনও দুনিয়াটাই দেখেনি৷ আমার ছেলে বাইরে গিয়ে অন্যদের সঙ্গে খেলাধুলো করতে ভালবাসত৷ চোখ বন্ধ করলেই ওর মুখটা ভেসে উঠছে৷ এই মুহূর্তে কোনও সান্ত্বনাই আমাদের কষ্ট ভুলিয়ে দিতে পারছে না৷’
প্রাঞ্জল রাজপুত নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘শনিবার সন্ধে ৭টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে৷ তিনি বলেন, আমি নিজের গাড়ি ধুচ্ছিলাম৷ সেই সময় একটি ছেলে ছুটতে ছুটতে এসে আমাকে বলে যে ওই গর্তের মধ্যে একটি শিশু পড়ে গিয়েছে৷’
প্রাঞ্জল জানিয়েছেন, ‘স্থানীয় একজন নিরাপত্তারক্ষী সঙ্গে সঙ্গে ওই গর্তের জলে নেমে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন৷ তাঁর সঙ্গে জলে নামেন আরও তিন চারজন৷ কিন্তু গর্তে জমে থাকা জলের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে অভ্যানকে খুঁজে পেতে বেশ কয়েক মিনিট সময় লেগে যায়৷ আমরা শিশুটির জ্ঞান ফেরাতে সবরকম চেষ্টা করি৷ দ্রুত তাঁকে হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি৷’
এই ধরনের ঘটনা অবশ্য গ্রেটার নয়ডায় এই প্রথম নয়৷ গত জানুয়ারি মাসেই গ্রেটার নয়ডাতেই একটি নির্মাণপ্রকল্পের চত্বরে তৈরি হওয়া বিশাল গর্তের মধ্যে জমে থাকা জলে গাড়ি নিয়ে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ২৭ বছর বয়সি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতার৷ সেই ঘটনার পরেও গ্রেটার নয়ডা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির দিকেই আঙুল উঠেছিল৷ কিন্তু তার পরেও যে সরকারি কর্তারা কোনও শিক্ষা নেননি, ছোট্ট অভ্যানের মৃত্যুই তার প্রমাণ৷
Kolkata,West Bengal
