Last Updated:
অন্যান্য বছরের মতো একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ আয়োজনের জন্য কলকাতা পুলিশকে চিঠি দিল মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস৷ কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই সমাবেশের আয়োজনের জন্য অনুমতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷
কলকাতা: ২১ জুলাই পালন নিয়ে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ফিতে নিয়ে মাপজোক করতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। এই নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র রোষের মুখে পড়লেন কুণাল। বিধানসভায় সোমবার শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘কলকাতার রাস্তায় ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনে ফিতে নিয়ে মাপতে চলে গেলেন? কে আপনাকে অনুমতি দিয়েছে? ১১ সালে তো বিগ্রেডে গিয়েছিলেন, দম আছে?’ এ নিয়েই এবার হল FIR৷
কুণাল ঘোষ, দোলা সেন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে৷ একুশে জুলাইয়ের সভার জন্য তাঁরা ২৮ জুন বেনটিঙ্ক স্ট্রিট ক্রসিংয়ে সমবেত হয়েছিলেন। তাঁদের ওই সমাবেশের ফলে যানবাহন চলাচল এবং নিত্যযাত্রীদের স্বাভাবিক যাতায়াতে বাধা পায় বলে অভিযোগ৷
FIR-এ উল্লেখ, হেয়ার স্ট্রিট থানা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ২৮৫ ধারার অধীনে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখের ১২২/২০২৬ নম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করেছে। এফআইআর (FIR) অনুযায়ী, ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে দুপুর ২:৫০ থেকে বিকেল ৪:০০টার মধ্যে অভিযুক্ত কুণাল ঘোষ (বিধায়ক), দোলা সেন (রাজ্যসভার সাংসদ), আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং অন্যরা বেন্টিক স্ট্রিটে সমবেত হয়েছিলেন। এর ফলে যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং নিত্যযাত্রীরা অসুবিধার সম্মুখীন হন। এই বিষয়ে উল্লিখিত মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে নোটিশ পাঠানো হবে।
এ নিয়ে মুখ খুলেছেন কুণালও৷ বেলেঘাটার বিধায়কের কথায়, ‘অনুমতি দেওয়া হবে ধরে নিয়েই প্রস্তুতি রাখব। আমরা বাঁশ নিয়ে রাস্তায় যায়নি। ফিতে নিয়ে মাপ করেছি। আমরা ব্রিগেডে করতে চাই। ২ কোটি ৪১ লক্ষ ভোট পেয়েছি আমরা। জল থাকলে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। রেগে গেলেন কেন? কাল গিয়ে ভিক্টোরিয়ার মাপমাপি করেছি বলে? যোগাসনের জন্য ৭ দিন বন্ধ ছিল রেড রোড। অর্ধেক রাস্তা যদি পারমিশন দেন। তার জন্য তো পুলিশের পারমিশন লাগে না। ধরে নিয়েছি দেবেন না অনুমতি। রবিবার ছুটির দিন, সেদিন মেপে থাকলে রাগ করা উচিত নয়।’
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে চরম বিপর্যয়ের পর থেকে তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একসময়ে যাঁরা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আস্থাভাজন’ হিসেবে দলীয় মঞ্চে আলো কাড়তেন আজ তাঁরাই একে একে দল ছেড়েছেন। একসময় যাঁদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছের লোক বলে ভাবা হত, সেই সব হেভিওয়েটরাও হাত ছেড়েছেন মমতার। যদিও এই দুর্দিনেও নেত্রীকে ছেড়ে যাননি জনা কয়েক হাতে গোনা বিধায়ক-মন্ত্রী। তাঁদের মধ্যেই অন্যতম কুণাল ঘোষ। বড় বার্তা দিয়ে কুণাল ঘোষ লেখেন, “মাথার উপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সর্বত্র দলকে প্রকৃত ভালোবাসা কর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই চালাবে। মেদ ঝরেছে, মেদ ঝরছে, আপাতদৃষ্টিতে খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেলেও সময়ের পরীক্ষা দলকে আগামীর জন্য শক্তিশালী করছে। আরে, ক্ষমতামুখী সুবিধেবাদী স্রোতের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্যেও দম দরকার। মানুষ নজর রাখছেন। তাঁদের বিচারই শেষ কথা।”
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
