Last Updated:
NEET Paper Leak 2026: শুধু পদত্যাগে নয়, নিট প্রশ্নফাঁসের দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি আত্মঘাতী পড়ুয়া আকাঙ্ক্ষার পরিবারের। কী বললেন পড়ুয়ার মা?
নাগপুর: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও সন্তুষ্ট নন আত্মহত্যা করা এক নিট পরীক্ষার্থীর মা নীলম চতুর্বেদী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, শুধুমাত্র পদত্যাগ নয়, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। নীলম চতুর্বেদীর মেয়ে আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদী চলতি বছরের ২০ মে নাগপুরে আত্মহত্যা করেন। নিট মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। পরে এক মাস পর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নীলম চতুর্বেদী বলেন, তিনি ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে রয়েছেন। তবে তাঁর মতে, শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে দায়বদ্ধতার শেষ হয় না। তিনি বলেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করেছি। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত।”

মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা আকাঙ্ক্ষা পরিবার-সহ নাগপুরে চলে এসেছিলেন নিট পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। সেখানে তিনি একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার পর আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছিলেন যে তাঁর পরীক্ষা ভালো হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা বাতিল হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর তিনি ভেঙে পড়েন এবং পরে আত্মহত্যা করেন। কাঁদতে কাঁদতে নীলম চতুর্বেদী বলেন, “আকাঙ্ক্ষার বাবা দু’বার হার্ট অ্যাটাক করেছেন। তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্তও। এখন আমাদের দেখবে কে? আমার মেয়ে বেঁচে থাকলে সব সামলে নিতে পারত।” আত্মহত্যার আগে রেখে যাওয়া হাতে লেখা চিঠিতে ১৮ বছরের আকাঙ্ক্ষা নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছিলেন।
চিঠিতে তিনি লেখেন, “মা-বাবা, তোমরা বিশ্বাস করেছিলে তোমাদের মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে ডাক্তার হবে। কিন্তু আমার আর আবার নিট পরীক্ষা দেওয়ার সাহস নেই। প্রথমবার আমি ভাল নম্বর পেতাম, কিন্তু এবার ভাল করতে পারব, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। আমাকে ক্ষমা করে দিও মা-বাবা। আমি সব নষ্ট করে ফেলেছি।” পরিবারের সদস্যদের দাবি, আকাঙ্ক্ষার পড়াশোনার খরচ চালাতে তাঁর বাবা বড় আর্থিক ঝুঁকি নিয়েছিলেন। তিনি অল্প জমিতে চাষ করার পাশাপাশি নাগপুরে রাঁধুনির কাজও করতেন, যাতে সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়ের কোচিংয়ের খরচও মেটানো যায়।
আকাঙ্ক্ষার কাকা জগদীশ প্রসাদ চতুর্বেদী জানান, পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার সময় আকাঙ্ক্ষাকে স্বাভাবিক ও খুশি দেখাচ্ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, ৬৫০-এর বেশি নম্বর পাবেন। কিন্তু প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের খবরের পর তিনি গভীর মানসিক আঘাত পান। এরপর তিনি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করতেন না এবং খুব কম কথা বলতেন। তিনি বলেন, “আমরা কখনও ভাবিনি ঘটনার পরিণতি এমন হবে।”
Kolkata,West Bengal
