ঘটনার পর পাপ্পু যাদব ও তাঁর সমর্থকদের দাবি, ধৃত দুই ব্যক্তির একজনের কাছে ছুরি ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কয়েকটি ভিডিওতে একটি টেবিলের উপর ছুরি রাখা অবস্থায়ও দেখা যায়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাপ্পু যাদবের অভিযোগ, “প্রতিদিনই কিছু বাবা বলছেন, আমাকে মেরে ফেলতে, পুড়িয়ে দিতে, এ জন্য ৫১ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। আজ যারা এসেছিল, তাদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তবে আমি বেঁচে গিয়েছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধৃতদের একজনের কাছে ছুরি ছিল এবং আগের রাতে তাঁর সন্তানদের বাড়িতেও কিছু ব্যক্তি গিয়েছিল।
পাপ্পু যাদবের অভিযোগ, “গত রাতে ওরা আমার সন্তানদের বাড়িতে গিয়েছিল। এখন ওদেরও ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলাম, সেই সময়ই আমাকে খুনের চেষ্টা করা হয়।”
দিল্লি পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, মূল অভিযুক্তের নাম সুমিত (৩৪)। তিনি উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের বাসিন্দা এবং বর্তমানে গাজিয়াবাদে লোহার ব্যবসা করেন। পুলিশের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয় অভিযুক্তের নাম হ্যাপি। অভিযোগ, তিনি পাপ্পু যাদবের বাড়ির বাইরে একটি ক্রেটা গাড়ির ভিতরে অপেক্ষা করছিলেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন সুমিত সাংসদের দিকে একটি জুতো ছুড়ে মারেন।
জেরায় দুই অভিযুক্ত জানিয়েছেন, তাঁরা রবিবার গাড়ি সারানোর জন্য বুলন্দশহর থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন। তবে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ঘটনার কয়েকদিন আগেই, ৩১ জুলাই, সংসদ চত্বরে বিরোধী সাংসদরা রাম মন্দিরে অনুদান সংগ্রহ নিয়ে একটি ব্যঙ্গাত্মক স্কিট মঞ্চস্থ করেছিলেন। সেই স্কিটে পাপ্পু যাদব গেরুয়া পোশাক পরে মন্দিরের পুরোহিতের চরিত্রে অভিনয় করেন। অন্যান্য বিরোধী সাংসদরাও অনুদানের বাক্স ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রতীকী অভিনয়ে অংশ নেন।
ওই স্কিটের তীব্র সমালোচনা করে বিজেপি। দলের নেত্রী বাঁশুরি স্বরাজ-সহ একাধিক বিজেপি বিধায়ক দিল্লিতে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের অভিযোগ, এই স্কিট হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
এছাড়া, এক ধর্মীয় নেতার অভিযোগের ভিত্তিতে বারাণসীতেও একটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী থানায় আবেদনকারী সূর্য মৈথিলও পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ করেছেন। এদিকে, বজরং দল-ও সংসদে রাম মন্দির সংক্রান্ত এই বিক্ষোভের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে। দিল্লি পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।