Last Updated:
Supreme Court on SIR: ‘দেশ জুড়ে চলবে এসআইআর, অবাধ নির্বাচনে এর বিকল্প নেই’, বুধবার এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতাকে বুধবার বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতাকে বুধবার বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও মজবুত করা এবং এটি কার্যত গণপ্রতিনিধিত্ব আইনকে আরও কার্যকর করে তোলে।
দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি বাগচী এবং বিচারপতি পাঞ্চোলি। বিহার-সহ একাধিক রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের চালানো এই বিশেষ পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার রায় দেয় বেঞ্চ। রায় ঘোষণার সময় আদালত জানায়, SIR সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে চারটি মূল প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এই প্রশ্নগুলির মধ্যে ছিল— নির্বাচন কমিশনের এই ধরনের বিশেষ পুনর্বিবেচনা চালানোর ক্ষমতা রয়েছে কি না, পুরো প্রক্রিয়াটি আইনসম্মত ও প্রয়োজনের তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-র পরিপন্থী কি না এবং ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব যাচাই করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে কি না।
শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের পক্ষেই রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা বা SIR প্রক্রিয়া সাংবিধানিক এবং আইনগতভাবে টেকসই। রায়ে বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানায়, এই প্রক্রিয়া অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা থেকে বিচ্যুত করে না, বরং সেই লক্ষ্যকে আরও নিশ্চিত করে।
আদালত আরও জানিয়েছে, SIR-এর মাধ্যমে যে উদ্দেশ্য পূরণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তার সঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সাংবিধানিক লক্ষ্যের সরাসরি যোগ রয়েছে বলে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা মনে করি, নির্বাচনী SIR প্রক্রিয়া অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতাকেই শক্তিশালী করে।
প্রসঙ্গত, বিহারে এসআইআর ঘোষণার পর সর্বোচ্চ আদালতে দায়ের হয়েছিল এই মামলা। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে প্রথম মামলা দায়ের করা হলেও তারপর একে একে মামলার সঙ্গে যুক্ত হয় দেশের প্রায় সব বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও ছিলেন এই মামলার অন্যতম পিটিশনার।
মামলাকারীদের মূল বক্তব্য ছিল, নাগরিকত্ব খতিয়ে দেখার এক্তিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নেই। পাশাপাশি, অভিযোগ তোলা হয় বিহারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীদের ভোটারদের নাম অনৈতিক ভাবে বাদ দেওয়ার জন্যই এই প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। দীর্ঘ শুনানি চলাকালীন সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, ভোটার তালিকায় সংশোধনে বাধা না দিলেও কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাতে না যায় সে বিষয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখবে সর্বোচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশেই আধার কার্ডকে এসআইআরে নথি হিসেবে গ্রহণ করা শুরু করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এবার সেই মামলার রায় দিল আদালত।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
May 27, 2026 11:39 AM IST
