Last Updated:
Jnaneshwari Missing Case: নিজেদের সন্তানের খোঁজে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়ে, শিশুটি নিরাপদে বাড়ি ফিরে আসবে— এই আশাতেই দিন গুনছেন বলে জানান শিশুটির মা ভবানী। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গত দু’দিন ধরে কিছু অপরিচিত ব্যক্তি তাদের বাড়িতে এসে মন্ত্র-তন্ত্রের মাধ্যমে শিশুটির অবস্থান খুঁজে বের করার আশ্বাস দিচ্ছেন। এ ধরনের আচরণ তাদের আরও বিভ্রান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলার টুনি এলাকার অগ্রহারাম গ্রামের দু’বছরের শিশুকন্যা নিখোঁজ হওয়ার পর ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার কোনও সন্ধান বা সূত্র পাওয়া যায়নি, যা সর্বত্র গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত ৬ জুন থেকে শিশুটি নিখোঁজ ৷ দিন যত গড়াচ্ছে, শিশুটির বাবা-মায়ের যন্ত্রণা ততই অসহনীয় হয়ে উঠছে। শত শত মানুষ বনাঞ্চলে তল্লাশি চালাচ্ছেন ৷ অত্যাধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে, তবুও শিশুটির কোনও খোঁজ না মেলায় এটি পুলিশের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি এই নিখোঁজের মামলার তদন্তে পোষা কুকুরকে ঘিরে একটি নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বাড়িতে সবসময় দুষ্টুমি করে ঘুরে বেড়ানো তাদের পোষা কুকুরটিও শিশুটির সঙ্গে বেরিয়ে গিয়েছিল। জুনের ৬ তারিখ দুপুর ১১টা ৫০ মিনিটের পর শিশুটির সঙ্গে ওই পোষ্যটিও বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।
সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ সিসিটিভি ফুটেজে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। গ্রামের প্রধান সড়কে কুকুরটিকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় এবং দুপুর ১টা ২ মিনিটে গ্রামের মন্দিরের কাছে সেটি সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এরপর সেটি কোথায় গিয়েছিল, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আশ্চর্যের বিষয় হল, ৯ তারিখ শিশুটি যে বাঁ-দিকের পথ দিয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেই পথ দিয়ে নয়; বরং ডানদিকের পথ ধরে কুকুরটি একাই বাড়ি ফিরে আসে।
তাহলে প্রশ্ন হল, ৬-৯ জুন- এই তিন দিন ওই পোষ্য কুকুরটি কোথায় ছিল? যদি কেউ শিশুটিকে অপহরণ করে থাকে, তাহলে কি কুকুরটি তাদের পিছু নিয়েছিল?— এমন বিভিন্ন দিক থেকে গভীর তদন্ত চলছে। তবে দুর্ভাগ্যবশত, সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে কুকুরটির মৃত্যু হয়েছে। ফলে পশু চিকিৎসকেরা কুকুরটির ময়নাতদন্ত করেছেন। সেই রিপোর্ট হাতে এলে শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্পষ্ট হতে পারে বলে পুলিশ মনে করছে।
অন্যদিকে, শিশুটি হয়তো পাহাড়ে উঠে গিয়েছিল— এই সন্দেহে বন দফতর ও পুলিশ ব্যাপকভাবে তল্লাশি চালিয়েছে। এতদিন ধরে শয়ে শয়ে মানুষ এলাকাটি চষে ফেললেও সেখানে কোনও বন্যপ্রাণী বা অজগর সাপের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ব্যাপক মানবসমাগমের কারণে বন্যপ্রাণীগুলো অন্যত্র চলে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে শিশুটির উপর কোনও বন্যপ্রাণীর আক্রমণ হয়েছে— এমন সম্ভাবনাকে তদন্তকারী দলগুলো প্রায় উড়িয়েই দিয়েছে।

ওই রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় অতীতে নথিভুক্ত শিশু নিখোঁজের মামলাগুলোর ফাইলও এখন পুলিশ পুনরায় খতিয়ে দেখছে। সেইসব মামলায় জড়িত পুরনো অপরাধী ও সন্দেহভাজনদের ফোন নম্বরের কল ডেটা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কোনও সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করেছে কি না, সেই দিক থেকেও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
Kolkata,West Bengal
