Last Updated:
তদন্তে জানা গিয়েছে, পাচারকারীরা তামুলপুর জেলার ভারত-ভুটান সীমান্তবর্তী এলাকার চরম দরিদ্র পরিবারগুলোকে টার্গেট করেছিল। তারা যুবক-যুবতীদের কৃষি দফতরে সরকারি চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করত। কিন্তু বাস্তবে তাদের সমস্তিপুরে নিয়ে গিয়ে একটি ভুয়ো কল সেন্টারে আটকে রাখা হয় এবং বিভিন্নভাবে অত্যাচার করা হয়।
অরবিন্দ প্রতাপ সিং, সমস্তিপুর: সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আটকে রেখে অত্যাচারের অভিযোগে, মানব পাচার প্রতিরোধ ইউনিটের আধিকারিকরা (AHTU) এবং সমস্তিপুর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে ১১৫ জন যুবক-যুবতীকে উদ্ধার করা হয়েছে বিহারের সমস্তিপুর থেকে ৷ উদ্ধার হওয়া যুবক-যুবতীদের মধ্যে ৪৮ জন তরুণী রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা বিহারের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি অসম ও পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
সমস্তিপুর জেলায় মানব পাচারের এই বড় চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে। পুলিশ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ অভিযানে ওই বন্দিশিবির থেকে ১১৫ জন যুবক-যুবতীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৮ জন তরুণী এবং ৬৭ জন যুবক রয়েছেন। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাবালক-নাবালিকাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসম ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাদের সমস্তিপুরে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেখানে একটি নির্দিষ্ট প্রাঙ্গণে তাদের জোরপূর্বক আটকে রাখা হতো। উদ্ধার হওয়া যুবক-যুবতীদের অভিযোগ, তাদের ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মধ্যে রাখা হত এবং বাড়ি ফিরে যাওয়া বা কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেই মারধর করা হতো।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও শ্যুট করে ব্ল্যাকমেল করা হত। পুলিশের আশঙ্কা, কয়েকজন তরুণী ও মহিলার যৌন নির্যাতনও করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
উদ্ধার হওয়া যুবক-যুবতীদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয় এবং ব্যাপক অভিযান চালানো হয়। প্রায় ১৫০ জন পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে।
Kolkata,West Bengal
Jun 19, 2026 11:13 AM IST
