কলকাতা: একটা সময়ে তাঁর ছবি অনুমতি পায়নি, জায়গা পায়নি নন্দনে। সত্যজিৎ রায়কে (Satyajit Roy) নিয়ে সিনেমা, অথচ সেই সিনেমা দেখানো যায়নি নন্দনেই! অবশেষে, মুক্তির ৪ বছর পরে, নন্দনে এল, ‘অপরাজিত’। অনীক দত্ত (Anik Dutta) পরিচালিত এই সিনেমায়, মুখ্যভূমিকায় অভিনয় করেছেন জিতু কমল (Jeetu Kamal)। জিতুর অভিনয় ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছিল, কার্যত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল জিতুর কেরিয়ার। তবে সেই সিনেমা দেখানো যায়নি নন্দনে। তৎকালীন সরকারের থেকে অনুমতি পাওয়া যায়নি, নন্দনে অনীক দত্ত পরিচালিত সিনেমা দেখানোর। কারণটা সবারই জানা। চিরকালীন তৃণমূল বিরোধী অনীক, কখনও নিজের রাজনৈতিক ভাবনা লুকোননি। চিরকালই তিনি তৃণমূলের সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। সদ্য আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে, প্রয়াত হন পরিচালক। আর তার বেশি কিছুদিন পরে, প্রথমবার নন্দনে জায়গা পেল অনীক দত্তের ছবি। আজ নন্দনে ছিল ‘অপরাজিত’-র প্রথম শো। হাজির ছিলেন, জিতু কমল (Jeetu Kamal)।
নন্দনে ‘অপরাজিত’, কেঁদে ফেললেন জিতু কমল
এদিন নন্দনে নতুন করে ‘অপরাজিত’ দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বহু দর্শক। এই সিনেমা যখন মুক্তি পেয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষ প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমিয়ে দেখেছিলেন এই সিনেমা। আর আজ, সিনেমা শেষ হওয়ার পরেই মঞ্চে ওঠেন জিতু। কথা বলতে গিয়ে গলা কেঁপে যায় তাঁর। ২টো লাইনের পরে, আর বেশি কথা বলতে পারেন না তিনি। জিতু বলেন, ‘আজ হাততালি দেওয়ার দিন নয়। চার বছর আগে যখন প্রত্যেকটা হলে যেতাম, অনীকদা আমায় আগে এগিয়ে দিতেন। কোন অজানা কারণে নন্দনে অনীকদার সিনেমা আটকে দেওয়া হত.. আজও জানি না। নতুন যে সমস্ত পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পীরা টলিউডে কাজ করছেন, তাঁদের যেন এই পরিস্থিতির মুখে না পড়তে হয়। সরকারের কাছে আমার অনুরোধ, ভবিষ্যতে কোনো শিল্পীকে যেন এইভাবে আটকে না দেওয়া হয়।’ আজ নন্দনের বাইরে রাখা হয়েছিল, সদ্য় প্রয়াত পরিচালকের ছবি, সেখানে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাদান করেন অনেক শিল্পীই।
আজ ‘অপরাজিত’ দেখতে নন্দনে এসেছিলেন, অনীক দত্ত কন্যা ঐশী। বাবার পরিচালিত কাজ দেখে চোখে জল মেয়েরও। এদিন অনীক দত্ত পরিচালিত সিনেমা দেখে, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেক দর্শকেরাই।