আল আরাবিয়ার (Al Arabiya) উদ্ধৃত সূত্রগুলি জানিয়েছে, আল-হামামি তাঁর বেশিরভাগ সময় ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়ায় কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি উগ্রপন্থী চিন্তাভাবনায় প্রভাবিত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। সূত্রগুলি জানিয়েছে, তাঁর উগ্র ও চরমপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে পরে ওমান তাঁকে উড়ান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করে।
বিমান চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞার পর আল-হামামি ওমান ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চলে যান। পরে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন বলে জানা গিয়েছে।
উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হওয়ার ইঙ্গিত প্রতিবেদনে:
আল-হামামির উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হওয়ার দাবি অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের সঙ্গে উঠে এসেছে তাঁর সিরিয়া-যোগের বিষয়টিও।
ইজরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাঁকে আল-কায়দার মতাদর্শে দীক্ষিত করা হয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ার সময় তিনি ধর্মীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। ইজরায়েলি আধিকারিকরাও জানিয়েছেন, তিনি উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন কি না, তা তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন।
তদন্ত সম্পর্কে অবহিত সূত্রকে উদ্ধৃত করে ইজরায়েলের i24NEWS জানিয়েছে, কো-পাইলট তদন্তকারীদের বলেছিলেন যে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিমানটিকে ইজরায়েলে ক্র্যাশ করা—এই পরিকল্পনা সফল হলে তা “৯/১১-র মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনা” ঘটাতে পারত।
অন্যান্য প্রতিবেদনেও তাঁর আগের বিমান চালানোর কর্মজীবন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিএনএন জানিয়েছে, তাঁর মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর ওমানের জাতীয় এয়ারলাইন থেকে তাঁর প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ফক্স নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উগ্রপন্থী ইসলামিক ওয়েবসাইট দেখার অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বিমান চালানো থেকে বিরত রাখা হয়েছিল।
এই প্রতিবেদনগুলির পর প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে আল-হামামি পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে কমার্শিয়াল (যাত্রিবাহী) পাইলট হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেলেন। ৩০ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় আল-হামামি ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের উপর হামলা চালিয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন। এর ফলে বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি তীব্রভাবে নীচের দিকে নামতে শুরু করে।
আহত হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় পাইলট ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে ক্রু সদস্য এবং যাত্রীরা হস্তক্ষেপ করতে পারেন। বিমানে থাকা দুই অফ ডিউটি-র পাইলটও বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করেন। এরপর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
প্রাথমিক চিকিৎসার পরে আল-হামামিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, বিমানটি ধ্বংস করে তার ভিতরে থাকা ইজরায়েলি যাত্রীদের মেরে ফেলাই ছিল হামলাকারীর উদ্দেশ্য। তাঁকে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত বলেও উল্লেখ করেছেন নেতানিয়াহু। ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হামলা বলে দাবি করেছে ইজরায়েল। আপাতত ইজরায়েলগামী বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে ফ্লাইদুবাই।