Last Updated:
Bankura News: বাঁকুড়ার খুদে ক্যারাটে প্রতিভা দেবজ্যোতি গুঁই ১০ম আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ অনূর্ধ্ব-১০ বিভাগে রুপো ও ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে ফের দেশের নাম উজ্জ্বল করল বাঁকুড়ার দশ বছরের খুদে ক্যারাটে প্রতিভা দেবজ্যোতি গুঁই। ১০ম আন্তর্জাতিক ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ অনূর্ধ্ব-১০ বিভাগে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে দুটি পদক ছিনিয়ে এনেছে সে। ‘কাতা’ বিভাগে রুপোর পদক এবং ‘ফাইটিং’ বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে বাঁকুড়া জেলা তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মুখ উজ্জ্বল করেছে চতুর্থ শ্রেণির এই শিক্ষার্থী।
বাঁকুড়া সদর ১ নম্বর ওয়ার্ডের গোপীনাথপুরের বাসিন্দা হলেও দেবজ্যোতির পরিবার বর্তমানে কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকে। তার বাবা মহাদেব গুঁই স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী এবং মা শম্পা গুঁই গৃহবধূ। বর্তমানে ব্যারাকপুরের একটি বিদ্যালয়ের ছাত্র দেবজ্যোতি মাত্র তিন বছর বয়স থেকেই ক্যারাটে চর্চা শুরু করে। এর আগে ২০২৪ সালের অষ্টম আন্তর্জাতিক ক্যারাটে প্রতিযোগিতাতেও ১০টি দেশের প্রতিযোগীদের হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল সে।
দেবজ্যোতির এই ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার কঠোর অনুশীলন ও যোগ্য কোচের নির্দেশনা। সে বর্তমানে ‘স্কুল অফ সেশিনকাই শিটো-রিউ ক্যারাটে দো অ্যান্ড কিক বক্সিং’-এ প্রশিক্ষক হানশি প্রেমজিৎ সেন এবং শিহান বিশ্বনাথ পুহানের অধীনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকা ও খেলাধুলাতেও সমান পারদর্শী এই খুদে অ্যাথলিট।
ছেলের এমন গৌরবময় সাফল্যে আবেগপ্লুত বাবা মহাদেব গুঁই জানান, কঠোর পরিশ্রম, কোচদের সঠিক দিশা এবং পরিবারের সমর্থনই দেবজ্যোতিকে আজ এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। দেশের পাশাপাশি বাঁকুড়ার নাম আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে পেরে তাঁরা গর্বিত। ভবিষ্যতে সে দেশের হয়ে সোনা জিতবে বলেই আশাবাদী পরিবার।
ভবিষ্যতে মার্শাল আর্টে ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করে আরও বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে দেশের জন্য সম্মান ছিনিয়ে আনাই দেবজ্যোতির একমাত্র লক্ষ্য। অতি অল্প বয়সেই পর পর আন্তর্জাতিক জয় প্রমাণ করে দিয়েছে যে, অধ্যবসায় ও সঠিক প্রশিক্ষণ থাকলে যেকোনো জায়গা থেকেই বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। বর্তমানে বাঁকুড়ার এই খুদে ক্যারাটেকা নতুন প্রজন্মের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
