নয়াদিল্লি: আমেরিকা থেকে দেশে ফিরছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে। আগামী ৬ জুন ভারতের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন তিনি। আর দেশে ফিরেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সূচনা করতে চলেছেন। দিল্লির যন্তর মন্তরে তিনি ধর্নায় বসবেন। NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে ধর্নায় বসবেন অভিজিৎ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিকে আরও জোরাল করবেন। (Cockroach Janta Party)
আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছিলেন অভিজিৎ। সেখান থেকেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ তথা CJP-র সূচনা করেন তিনি। পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই CJP-র সূচনা করেন অভিজিৎ। তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্য়া হয়েছে বলে পরে যদিও মন্তব্য করেন CJI, কিন্তু তত ক্ষণে বিরোধিতা চরমে পৌঁছে গিয়েছে। CJP-তে দলে দলে শামিল হয়েছেন মানুষজন। (Abhijeet Dipke)
সেই ডিজিটাল আন্দোলনকে ভার্চুয়াল জগৎ থেকে রাস্তায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত অভিজিতের। একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করে অভিজিৎ জানিয়েছেন, ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসে যে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তার জন্যই রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন অভিজিৎ। তিনি বলেন, “সময় এসে গিয়েছে আমাদের একজোট হওয়ার, দেশের সংবিধাব মেনে শান্তিপূর্ণণ ভাবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তোলার।”
Important announcement:
CJP Founder @abhijeet_dipke will return to India on June 6 for a peaceful protest at Jantar Mantar, Delhi, demanding the resignation of the Education Minister. pic.twitter.com/x9M1v38Pwu
— Cockroach is Back (@Cockroachisback) June 1, 2026
আরও পড়ুন: বিজেপি-তে নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না? দল ছাড়ছেন একসময়ের ‘সিঙ্ঘম’, আলাদা পার্টি গড়বেন
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্য়াগের দাবিতে যে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল CJP, তাতে ৮ লক্ষেরও বেশি পড়ুয়া স্বাক্ষর করেছেন। অভিজিৎ জানিয়েছেন, দেশের অন্যত্র ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ, আন্দোলন শুরু হয়েছে। লখনউ, জয়পুর, মহারাষ্ট্রে পথে নামছেন মানুষজন। NEET, CBSE, CUET মিলিয়ে ১ কোটি পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি তাঁর। অভিজিতের কথায়, “এত বড় বিপর্যয় ঘটানোর পরও যদি শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করেন, তাহলে বুঝতে হবে দেশে আর দায়বদ্ধতা বলে কিছু নেই।” সিস্টেমের ব্যর্থতার দায় কেন পড়ুয়াদের বইতে হবে, প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আগামী ৬ জুন দিল্লিতে নেমে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জন্য পুলিশের কাছে অনুমতি চাইবেন অভিজিৎ। তিনি জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরে তাঁদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণই হবে। পড়ুয়া থেকে দেশের যুবসমাজকে ওই আন্দোলনে শামিল হতে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে না দিলেও, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির আপত্তি থাকার কথা নয় বলে মনে করছেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, “বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের লোকজনের আশঙ্কা আমাকে গ্রেফতার করে জেলে ঢোকানো হবে। তা সত্ত্বেও আমি আশাবাদী যে, আমাদের দেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অনুমতি পাব আমরা। আমি পরিষ্কার বলতে চাই যে, আমি গাঁধী, আম্বেডকর, ভগৎ সিংহ, নেহরুর অনুরাগী। বাকি সবকিছুর চেয়ে দেশের সংবিধানের প্রতি আস্থাবান, যা গণতন্ত্রে সরব হওয়ার অধিকার দিয়েছে আমাদের। আর জেলে যাওয়ার কথা যদি ওঠে, তাহলে বলব, আর কত দিন ভয়ে গুটিয়ে থাকব আমরা? এই দেশ কোনও একটি দলের নয়। এই দেশ আমাদের সকলের। আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্ন জড়িয়ে। আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হচ্ছে। কারণ সঙ্গে অন্য়ায় ঘটলে, আমাদেরই দায়িত্ব একজোট হয়ে, শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ জানানো।”
আরও পড়ুন: আলোর ঝলকানি, জোর বিস্ফোরণ, দুলে উঠল চারপাশ, আমেরিকায় উল্কা বিস্ফোরণ, তীব্রতা ৩০০ TNT-র সমতুল্য
CJP প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসবে কি না, তা সময়ই বলবে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন অভিজিৎ। দেশে ফেরার ঘোষণা করে অভিজিৎ জানিয়েছেন, আমেরিকায় একাধিক চাকরির অফার আছে তাঁর কাছে। কিন্তু দেশের কাজে যোগ দিতে চান তিনি, ক্ষতিগ্রস্ত NEET পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চান। তাঁর বক্তব্য, “আমেরিকায় একাধিক চাকরির অফার পেয়েছি গত কয়েক দিনে। কিন্তু আমি ওই সব চাকরি করব না। ভারতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশকে ভালবাসি। দেশের জন্য কিছু করতে চাই। আজ আমরা যতদূর এগোতে পেরেছি, তা দেশের জন্যই।”
বাকি অনেকের মতো NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গোড়া থেকেই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন অভিজিৎ। এবার সেই দাবিকে আরও জোরাল করার পথে তিনি। তবে যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসার অনুমতি পান কি না, তা-ই দেখার।