লাস ভেগাসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আমেরিকা ইরানকে দুর্বল করেছে, তবে এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ওদের ওপর ভয়াবহ আঘাত হানছি। তবে আমি একটি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষকে হত্যা করতে চাই না।”
তিনি ইরানের ক্ষেত্রে আমেরিকার অবস্থানের সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় নেওয়া পদক্ষেপের তুলনা করেন এবং দাবি করেন, ওয়াশিংটন উভয় পরিস্থিতি থেকেই লাভবান হয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, আরও বড় একটি সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কিন্তু ইরান আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করার পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় হামলার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম। তখন ওরা আমাকে ফোন করে বললেন, অনুগ্রহ করে এটা করবেন না। আসুন, আমরা আলোচনা করি।… আমরা এখন আলোচনা করছি। দেখা যাক কী হয়।”
ট্রাম্প আবার জানান যে, ইরানকে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, “ওরা আমাদের সম্মান করে… অনেক আগেই যা করা উচিত ছিল, তা অন্য কোনও প্রেসিডেন্ট করেননি। কারণ ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গত কয়েক দিন ধরে তিনি পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়ে আসছেন। একদিকে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন, অন্যদিকে আবার শিগগিরই একটি সমঝোতা চুক্তি হতে পারে বলেও আশার কথা জানিয়েছেন।
ওমানের সঙ্গে হরমুজ চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে ইরান:
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই ইরান জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি পৃথক চুক্তির অগ্রগতি হয়েছে।
ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, চুক্তির খসড়া প্রণয়নের কাজ ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। তিনি বলেন, “কিছু পক্ষ” যদি এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি না করে, তবে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে। তাঁর এই মন্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি-ও জানান, দুই দেশ চুক্তি চূড়ান্ত করার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে এবং প্রায় সব বিষয়েই সমাধান হয়ে গিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওমানের সঙ্গে এই আলোচনা সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক, এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা করছে—এমন খবরও তিনি অস্বীকার করেন।