এই সম্ভাব্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এমন সময় সামনে এসেছে, যখন মঙ্গলবার সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্পের সামনে একাধিক নতুন সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। বিবেচনাধীন পরিকল্পনাগুলির মধ্যে এমন কিছু বিকল্প রয়েছে, যা বর্তমান সময়ে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে সীমাবদ্ধ মার্কিন হামলার পরিধি বাড়িয়ে ইরানের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত স্থাপনাগুলিকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দিতে পারেন।
ইরানের অভ্যন্তরে আরও বিস্তৃত হামলার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র:
বিবেচনাধীন বিকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা এবং দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলিতে আরও আঘাত হানা। এর উদ্দেশ্য হলো, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকে আরও গভীরে চাপা পড়তে বাধ্য করা, যাতে সেটিতে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও একটি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হলো ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ (Pickaxe Mountain)-এর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা, যা নির্মীয়মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এমন মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি করতে আগ্রহী, যাতে ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে বাধ্য হয় এবং তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ট্রাম্পের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।
অন্যদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ট্রাম্প মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন-এর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে পরামর্শ করছেন।
ইজরায়েলে আরও কয়েক ডজন আকাশপথে জ্বালানি ভরার বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি:
বর্তমানে তেল আভিভের কাছে অবস্থিত বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমেরিকার প্রায় ৩০টি সামরিক আকাশপথে জ্বালানি ভরার (এরিয়াল রিফুয়েলিং) বিমান মোতায়েন রয়েছে। একই সংখ্যক বিমান দক্ষিণ ইজরায়েলের রামন বিমানবন্দরেও অবস্থান করছে।
ইজরায়েলি কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও কয়েক ডজন এমন বিমান মোতায়েন করতে চায়, যাতে সংঘাতের শুরুতে যে পরিমাণ বিমান মোতায়েন ছিল, সেই সংখ্যার কাছাকাছি আবার পৌঁছানো যায়।
আকাশপথে জ্বালানি ভরার এই বিমানগুলির মাধ্যমে যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমান দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে পারে এবং আরও দীর্ঘ দূরত্বে সামরিক অভিযান চালাতে সক্ষম হয়। ফলে ইরানের অভ্যন্তরের টার্গেটগুলির বিরুদ্ধে যদি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান চালানো হয়, তাহলে এই ধরনের বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।