Last Updated:
সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানি নেতৃত্বের পাঠানো এই বার্তাটি আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করতে পারেন।
তেহরান: পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব নেপথ্য কূটনীতির একটি নতুন মাধ্যম হিসেবে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গিয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, রাওয়ালপিন্ডিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের কাছে একটি ‘গোপন বার্তা’ পাঠিয়েছেন।
পাকিস্তানের শীর্ষ নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি (Iranian Interior Minister Eskandar Momeni) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল হেডকোয়ার্টারে (GHQ)-এ আসিম মুনিরের সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিটের একান্ত বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে মোমেনি ব্যক্তিগতভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার গোপন বার্তাটি পৌঁছে দেন এবং পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি নতুন মধ্যস্থতা কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন।
ইরান, ইজরায়েল এবং আমেরিকাকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনার পর এমন এক সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন গোটা অঞ্চলে অনিশ্চয়তা চরমে পৌঁছেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ‘অপরিহার্য ভূমিকা’ স্বীকার করেছে এবং ইসলামাবাদের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে। আলোচনায় উভয় পক্ষ আঞ্চলিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি রক্ষায় নিজেদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে।
ইরানি প্রতিনিধিরা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (Islamabad MoU)’-এ পাকিস্তানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন এবং ইসলামাবাদকে এই অঞ্চলের ‘শান্তির ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও ওই সমঝোতার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া জুড়ে উত্তেজনা কমাতে একটি সুসংগঠিত মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
আঞ্চলিক কূটনীতির পাশাপাশি, দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান-ইরান সীমান্তে কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার উপর জোর দেওয়া হয়। সূত্রগুলোর দাবি, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যেতে দুই দেশ সম্মত হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান আবারও নিজেদের ‘সৎ মধ্যস্থতাকারী’ (honest mediator) হিসেবে ভূমিকা পালনের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলির আরও দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের নেতৃত্বের পাঠানো বার্তাটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় উত্থাপন করতে পারেন। এছাড়া, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কথাবার্তা এগিয়ে নিতে বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র সফরও করতে পারেন।
বৈঠকে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি নাকি জানিয়েছেন, তেহরান সহযোগিতা ও সংলাপের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ এবং জাতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আপস করবে না।
Kolkata,West Bengal
