এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, সোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কি শেষ হয়ে গিয়েছে, নাকি এটি সাময়িক বিরতি? বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগ সংস্থাগুলির মতে, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে সোনার দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে। তবে ২০২৭ সাল নিয়ে অধিকাংশ সংস্থাই এখনও আশাবাদী। তাদের মতে, যদি বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে, তাহলে সোনা আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে।
২০২৬ সালের বাকি সময়ে কী হতে পারে?
বর্তমানে সোনার দামের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার। বাজারের ধারণা, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেড আবারও কড়া অবস্থান নিতে পারে। সুদের হার বাড়লে সাধারণত বন্ড এবং মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ে, ফলে সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। কারণ, সোনা থেকে কোনও সুদ পাওয়া যায় না। জুলাই মাসে বাজারে প্রায় ৬২ শতাংশ সম্ভাবনা ধরা হচ্ছিল যে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়তে পারে।
বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যাঙ্ক HSBC ২০২৬ এবং ২০২৭—উভয় বছরের জন্যই সোনার দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে।২০২৬ সালের গড় দাম প্রতি আউন্স ৪,৮৬৪ ডলার থেকে কমিয়ে ৪,৫৬০ ডলার করা হয়েছে।
২০২৭ সালের পূর্বাভাস ৫,০০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪,৯২৫ ডলার করা হয়েছে।
ব্যাঙ্কের মতে, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে সোনার দাম ৩,৮০০ থেকে ৪,৭০০ ডলার প্রতি আউন্সের মধ্যে থাকতে পারে।
বছরের শেষে দাম প্রায় ৪,৭৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
JP Morgan এখনও আশাবাদী –
অন্যদিকে JP Morgan-এর মত কিছুটা আলাদা। ব্যাঙ্কটির মতে, যদি সুদের হারের চাপ কমে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বজায় থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোনার দাম প্রতি আউন্স ৬,০০০ ডলার এবং ২০২৭ সালে ৬,৩০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তবে ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডের নীতির ওপর নির্ভর করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণ দীর্ঘমেয়াদে সোনার দামকে সমর্থন জোগাতে পারে।
চিন-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এখনও নিয়মিত সোনা কিনছে।
একাধিক দেশ মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।
বিশ্বের বহু বড় দেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
আগামী কয়েক মাসে সোনার দামের গতিপথ মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে—
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।
পশ্চিম এশিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে কি না।
গোল্ড ETF-এ আবার বিনিয়োগ বাড়ে, নাকি অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। HSBC-র মতে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ETF থেকে অর্থ প্রত্যাহারের চাপ কিছুটা কমতে পারে।
আপনি যদি মাত্র কয়েক মাসের জন্য সোনায় বিনিয়োগ করতে চান, তাহলে বড় ধরনের লাভের সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এখনও আশার আলো রয়েছে। বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগ ব্যাঙ্কগুলির মতে, যদি মার্কিন ডলার দুর্বল হয়, সুদের হার কমে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বজায় থাকে, তাহলে ২০২৭ সালে সোনা আবারও শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন করতে পারে।