এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) ৪ অগাস্ট রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (DCA) থেকে টেক অফ করা একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে মেরিন ওয়ানের মধ্যে ‘লস অফ সেপারেশন’ (নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া) সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-ও ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের আকাশে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সঙ্গে অস্পষ্ট যোগাযোগের (Garbled Communications) পর মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারটি একটি যাত্রীবাহী বিমানের এক মাইলেরও কম দূরত্বে চলে এসেছিল।
হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্প কখনও বিপদের মুখে ছিলেন না:
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেন।
দেশাই সংবাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘‘মেরিন ওয়ানের ফ্লাইট পরিচালনা করেন বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বিমান বিশেষজ্ঞরা। পুরো ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট কোনও মুহূর্তেই বিপদের মধ্যে ছিলেন না।’’ এফএএ-ও জোর দিয়ে জানিয়েছে, এই ঘটনায় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার কোনও ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘‘প্রেসিডেন্ট কখনও বিপদের মধ্যে ছিলেন না। আমরা ঘটনাটি পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং তদন্তে যা উঠে আসবে, তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
এএফপির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কথিত ‘লস অফ সেপারেশন’-এর পুরো ঘটনার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার মেরিন ওয়ানের পাইলট এবং যাত্রীবাহী বিমানের পাইলট—উভয়ের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।
তদন্তের মূল প্রশ্ন—মেরিন ওয়ান অবতরণের পথে থাকাকালীন কেন যাত্রীবাহী বিমানকে টেক অফের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল?
ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানিয়ে সংবাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন কেন মেরিন ওয়ান রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণের জন্য এগিয়ে আসার সময় ওই যাত্রীবাহী বিমানকে টেক অফের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ গত বছরের বিমানবন্দরের কাছে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী মাঝআকাশের সংঘর্ষের পর এ ধরনের ঘটনা এড়াতে নতুন নিরাপত্তা প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল।
এপি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেরিন ওয়ান হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে অ্যান্ড্রুজ এয়ার ফোর্স বেসে রওনা দিয়েছিল। সেখান থেকে ক্যালিফোর্নিয়া সফরের প্রথম ধাপের জন্য তাঁর এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠার কথা ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হেলিকপ্টারটি বিমানবন্দরের দিকে এগিয়ে আসার সময়ই যাত্রীবাহী বিমানটি টেক অফ করে। তবে যাত্রীবাহী বিমানটি মেরিন ওয়ানের চেয়ে বেশি উচ্চতায় উঠে যাচ্ছিল, ফলে দুটি উড়োজাহাজ পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষের পথে ছিল না। এফএএ জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গিয়েছে, ‘‘অল্প সময়ের জন্য নির্ধারিত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা যায়নি, এরপরই দুটি উড়োজাহাজ একে অপরের থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।’’
প্রতিবেদনে দাবি, নির্ধারিত নিরাপত্তা দূরত্বের চেয়েও কাছাকাছি চলে এসেছিল দুই উড়োজাহাজ:
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী সাধারণত দুটি উড়োজাহাজের মধ্যে অন্তত ১.৫ মাইল অনুভূমিক দূরত্ব এবং ৫০০ ফুট উল্লম্ব দূরত্ব (Vertical Separation) বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।