ঘটনাটি মধ্য আমেরিকার গুয়াতেমালার এল জোকোটে এলাকার। সেখানে ইউলেইদি ইক্সকোটোয়াক নামে ১৫ বছরের এক কিশোরীর আকস্মিক মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু প্রায় ৮ ঘণ্টা পর ইউলেইদির সঙ্গে এমন কিছু ঘটল, যা দেখে তার পরিবারের সদস্যরাও হতবাক হয়ে যান। ভোরবেলা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে ইউলেইদি। সে তার বাবা আব্রাহাম ইক্সকোটোয়াক ডোজিনকে জানায়, তার বুকে তীব্র ব্যথা হচ্ছে এবং বুকটা ভারী লাগছে।
অচেতন হয়ে পড়ে ইউলেইদি, মেয়েকে মৃত বলে ধরে নেন বাবা:
মেয়ের কথা শুনেই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা দেন বাবা। কিন্তু পথেই তার শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয় যে সে অচেতন হয়ে পড়ে। ইউলেইদির বাবার দাবি, তাঁরা যখন সান পেদ্রো জোকোপিলাস এলাকায় পৌঁছন, তখন তাঁর মেয়ে আর শ্বাস নিচ্ছিল না। এমনকী, তার নাড়ির স্পন্দনও অনুভব করা যাচ্ছিল না। ফলে তাঁর মনে হয়, ইউলেইদির মৃত্যু হয়েছে। তাই সেখান থেকেই বাড়ি ফিরে আসেন তাঁরা। হাসপাতালে যাওয়ার কথাও ভাবেননি। কোনও চিকিৎসকই ওই কিশোরীকে পরীক্ষা করে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
কফিনে নড়াচড়া, খুলতেই মেয়েকে জীবিত অবস্থায় পেলেন মা!
আব্রাহামের মনে হয়েছিল, তাঁর মেয়ে মারা গিয়েছে। তাই তিনি কফিন নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। ততক্ষণে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশী-সহ বহু মানুষ সেখানে জড়ো হয়ে গিয়েছিলেন। মেয়ের কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন মা লেসভিয়া। ঠিক তখনই তাঁর নজর পড়ে কফিনের দিকে। তাঁর মনে হয়, ভিতরে যেন কিছু একটা নড়ছে। প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। কিন্তু দ্বিতীয়বার ভালো করে দেখতেই বুঝতে পারেন, সত্যিই নড়ছে কফিনটি।
সঙ্গে সঙ্গে কফিন খুলে ফেলেন মা। ভিতরের দৃশ্য দেখে তাঁর বিস্ময়ের সীমা ছিল না। মেয়ে ইউলেইদি জীবিত ছিল এবং তার জ্ঞানও ফিরে এসেছিল। এই দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত আত্মীয়রাও হতবাক হয়ে যান। কিছুক্ষণ আগেও যাঁরা তার জন্য চোখের জল ফেলছিলেন, তাঁরাই এবার আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন। দ্রুত ইউলেইদিকে কফিন থেকে বাইরে বের করে আনা হয়। জ্ঞান ফিরতেই সে খাওয়ার জন্য জল চায়।
ভাইরাল হচ্ছে ভিডিও:
এই পুরো ঘটনার একটি ভিডিওও সামনে এসেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল, ঠিক কী ঘটেছিল ইউলেইদির সঙ্গে? জ্ঞান ফেরার পর ইউলেইদি জানায়, তার বুকে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল। ধীরে ধীরে বুকের ভারী ভাব বাড়তে থাকে এবং তারপর সে অচেতন হয়ে পড়ে। এর পর কী হয়েছিল, তা তার আর মনে নেই। সে জানায়, জীবিত থাকার জন্য ঈশ্বর এবং তার বাবা-মায়ের কাছে সে কৃতজ্ঞ। যদিও ঘটনার পরেও তার শরীর কাঁপছিল এবং ধীরে ধীরে তার শক্তি ফিরে আসছিল।
ইউলেইদির বাবা আব্রাহাম একজন খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক। মেয়েকে এভাবে আবার জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়াকে তিনি ঈশ্বরের আশীর্বাদ বলে মনে করেন। জানা গিয়েছে, অচেতন হয়ে পড়ার প্রায় আট ঘণ্টা পর ইউলেইদির কফিনের ভিতরেই জ্ঞান ফিরে আসে এবং সে পাশ ফিরে শোয়ে। কিন্তু এই আট ঘণ্টা তার শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন ছিল এবং কেন সে অচেতন হয়ে পড়েছিল, তার কোনও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাবিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি।