Last Updated:
ভয়াবহ ফুটেজে দেখা যায়, গোটা বিমান কাঁপছে এবং আতঙ্কে যাত্রীদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড পর বিমানের ছাদের বড় বড় অংশ যাত্রীদের উপর ভেঙে পড়তে শুরু করে।
তেহরান: ইরানে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন বিমান যাত্রীরা। মাশাদ বিমানবন্দর থেকে টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিপত্তি ৷ বোয়িং ৭৩৭ বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়। মাঝ আকাশে বিমানের ভিতরের অংশ ভেঙে পড়তে শুরু করার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ইরানের মাশাদ থেকে কেরমানশাহ যাচ্ছিল বিমানটি। টেক অফের পরেই একটি চাকার টায়ার খুলে যায়। তারপর ইঞ্জিনে গোলযোগ শুরু হয়। মাঝ আকাশে উড়ন্ত অবস্থাতেই ভয়ঙ্কর কাঁপতে শুরু করে বিমানটি। যাত্রীদের ওপরে রাখা লাগেজের বাঙ্কে সব মালপত্র পড়ে যায়। কিছু মালপত্র কয়েকজন যাত্রীর মাথায় লাগে। অনেক কষ্টে বিমানটিকে মাশাদ বিমানবন্দরে এমার্জেন্সি ল্যান্ডিং করানো হয়। তবে কোনও যাত্রীর কোনও গুরুতর চোট লাগেনি।
ভয়াবহ ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিমানের পুরো কেবিন কাঁপছে এবং আতঙ্কে যাত্রীদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড পর বিমানের ছাদের বড় বড় অংশ যাত্রীদের উপর ভেঙে পড়তে শুরু করে। আতঙ্কিত এক যাত্রীকে “আল্লাহ” বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। অন্য এক মহিলাকেও ভয়ে চিৎকার করতে শোনা যায়।
অন্যান্য যাত্রীদেরও আতঙ্কে নিজেদের আসন আঁকড়ে ধরে থাকতে দেখা যায়। যিনি ভিডিওটি রেকর্ড করছিলেন বলে জানা গিয়েছে, তিনিও আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর ক্যামেরাটি নাটকীয়ভাবে মেঝের দিকে হেলে পড়ে।
দ্য সান-এর প্রতিবেদনে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল প্রায় ৫টা ৪০ মিনিটে মাঝ আকাশে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সিম্পলি ফ্লাইং-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপেহরান এয়ারলাইন্সের (Sepehran Airlines) বিমানটির টেক অফের কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি টায়ার ফেটে যায়। এর ফলে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয় এবং বিমানে তীব্র কম্পন শুরু হয়। পাইলট জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেন এবং পরে বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করান। এই ঘটনায় কোনও যাত্রী আহত হননি বলে জানা গিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানের সমস্ত যাত্রী ও ক্রুকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সেই সময়ই বিমানে “যান্ত্রিক ত্রুটি” দেখা দেয়। ঘটনার পর তদন্তের জন্য মাশাদ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দ্য সান-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে, মাঝ আকাশে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটির পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইরানের সিভিল এভিয়েশন বিভাগ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
