ব্যারাকপুর: রাত পোহালেই ভোটগণনা। তার আগের সন্ধ্যায় তোলপাড় পড়ে গেল একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বারাসাত-ব্যারাকপুুর রোডে রাস্তায় আবর্জনার স্তুপের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেল অজস্র VVPAT স্লিপ! যা নিয়ে হুলস্থুল পড়ে যায়।
সুভাষনগরে একশোরও বেশি VVPAT স্লিপ উদ্ধার হয়েছে, জানাজানি হতেই পৌঁছে যায় সিপিএম, তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থীরা। ঘটনাস্থলে যায় দত্তপুুকুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি সামলাতে নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
নোয়াপাড়া বিধানসভার গারুলিয়ায় ২৯ নম্বর বুথে ১০০-র বেশি ভিভিপ্যাট স্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহ। খবর যায় নির্বাচন কমিশনে। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের আগে মক পোলের সময় ব্যবহৃত VVPAT স্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘এগুলি ভোটের দিনের VVPAT স্লিপ নয়।’ তাও অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে, কমিশন সূত্রে খবর।
এমনিতেই রাজ্যের অন্যতম উত্তেজনাপ্রবণ, ঘটনাবহুল কেন্দ্র ব্যারাকপুর, ভাটপাড়া, নোয়াপাড়া। উত্তর ২৪ পরগনার সেই ব্যারাকপুরে রাস্তার ধারে পড়ে অসংখ্য ভিভি প্যাটের স্লিপ! ভোটগণনার আগের দিন সন্ধ্যায় যা জানাজানি হতেই তোলপাড় পড়ে যায়। খবর পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছন সিপিএম প্রার্থী গার্গী চট্টোপাধ্যায়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী, ছাত্রনেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। পৌঁছে যান বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহও । তাঁদের সকলেরই বক্তব্য, নজরদারি এড়িয়ে কী করে ভি ভি প্যাটের স্লিপ এভাবে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা সম্ভব?
দত্তপুকুর থানার পুলিশ সেই ভি ভি প্যাট স্লিপ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধ্বস্তাধস্তি শুরু হয়। বাধা দেন সিপিএম ও বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা । উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয় । পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়। সিপিএম প্রার্থী গার্গী বলেছেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন ঘেঁটে ঘ করে দিয়েছে । নিশ্চয়ই কোনও মতলব রয়েছে । বেশিরভাগ স্লিপই আমাদের । অবশ্যই বিজেপিরও স্লিপ আছে । নেই আমি বলব না । কিন্তু বেশিরভাগই আমাদের ।’ তিনি আরও জানান, প্রথমে তাঁদের এক কর্মীর নজরেই ঘটনাটি আসে । গার্গী বলছেন, ‘RO ফোন ধরে না । অবজার্ভার বলছে, দেখছি দেখছি । মনোজ আগরওয়াল ফোন ধরে না । আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব । দরকার হলে কাউন্টিং বন্ধ করে দেওয়া হবে ।’
যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্লিপগুলি মক পোলিংয়ের।