Gold News Update: আপনার বাড়িতে বা লকারে দীর্ঘদিন ধরে সোনা (Gold Schemes) পড়ে থাকলে কাজে লাগাতে পারেন। কারণ, সরকারের অনুমতিতে চলে ‘গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম’ (Gold Monetization Scheme)। বর্তমানে এই সোনার স্কিম আপনার আয়ের উৎস হতে পারে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই স্কিমের নিয়মে বদল আনতে পারে সরকার।
কেন নতুন সশোধিত স্কিম আনতে পারে সরকার
মূলত, দেশবাসীর ঘরে পড়ে থাকা সোনা এবার কাজে লাগাতে চাইছে সরকার। আগের মতো বিদেশ থেকে সোনা আমদানির ভার কমাতে চাইছে কেন্দ্র। যার ফলে ইমপোর্ট ডিউটি বা শুল্কের খরচ কমবে সরকারের। সেই কারণেই ‘গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমে’ সংশোধন আনতে চলেছে সরকার। অন্তত তেমনই খবর পাওয়া যাচ্ছে।
গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম কী ?
ভারতে গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সোনা ব্যাঙ্কে রেখে টাকা রোজগার করতে পারতেন গ্রাহকরা। মূলত, জমা রাখা সোনার ওপর সুদই ছিল আয়ের উৎস। পরবর্তীকালে গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমের মেয়াদপূর্তির পর বিনিয়োগকারীরা অর্থ ফেরত পেয়ে যেতেন।
নতুন গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিমে কী বদল
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, এবার ভ্যাঙ্কের পাশাপাশি সোনা জমা নিতে পারবে জুয়েলার্সরা। অতীতে সোনা জমা দেওয়ার জন্য কেবল নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্কের ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে নতুন খসড়া অনুযায়ী, এবার দেশের সাধারণ জুয়েলার্স বা স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এই স্কিমের আওতায় ‘কালেকশন পার্টনার’ বা সংগ্রহকারী হিসেবে যোগ করা হতে পারে। মূলত, সরকার চাইছে এই স্কিমের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে থাকা সোনা দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যবহার করতে।
কী বলছেন সোনার ব্যবসায়ীরা
অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ডস্মিথ ফেডারেশন (AIJGF)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাধারণ মানুষ তাদের বাড়ির কাছাকাছি পরিচিত জুয়েলারি দোকানে গিয়েই সোনা জমা দিতে পারবেন, যা এই স্কিমটিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করে তুলবে।
কেন দেশবাসীর গচ্ছিত সোনার ওপর সরকারের নজর ?
সূত্রের খবর, বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডারের ওপর চাপ কমাতে চাইছে সরকার। যে কারণে দেশের পরিবারগুলির কাছে গচ্ছিত হাজার হাজার টন জমা সোনার দিকে নজর সরকারের। প্রতি বছর চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিপুল পরিমাণ সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করে সরকার। যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে রাখা এই সোনার একাংশও ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় নিয়ে আসা যায়, তবে আমদানি-নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে ও অর্থনীতি উপকৃত হবে।
আরও পড়ুন : আসল ভেবে নকল ২০০ টাকার নোট নিচ্ছেন ? কীভাবে চিনবেন কোনটা ঠিক ? রইল ৭ উপায়