JPMorgan-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আইটি পরিষেবার চাহিদার উপর চাপ তৈরি হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই দুই কারণের জেরে আগামী দিনে ভারতীয় আইটি সেক্টরের প্রবৃদ্ধি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে আইটি শিল্প এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতের চাহিদা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। একদিকে AI কাজের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশও অনিশ্চিত। ফলে বহু সংস্থা তাদের ব্যয় পুনর্বিবেচনা করছে এবং নতুন IT প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে। এর ফলে আগামী দিনে দ্রুত প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা কম বলেই মনে করছে JPMorgan।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত তিন বছরে আইটি পরিষেবা সংস্থাগুলির আয় মাত্র ২-৩ শতাংশ হারে বেড়েছে। JPMorgan-এর মতে, AI-এর প্রভাব এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দু’বছর পর্যন্ত এর চাপ শিল্পের উপর বজায় থাকতে পারে। তাই সংস্থাটি মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে দিয়েছে। এখন তাদের অনুমান, বড় IT সংস্থাগুলির আয় বৃদ্ধির হার ৩-৪ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
JPMorgan-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সংস্থাগুলি এখন AI এবং ক্লাউড প্রযুক্তি-তে বেশি বিনিয়োগ করছে। ফলে প্রচলিত IT পরিষেবায় ব্যয় তুলনামূলকভাবে কমছে। একইসঙ্গে বড় বড় প্রকল্প এবং নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হতেও দেরি হচ্ছে, কারণ অনেক সংস্থাই বিনিয়োগের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। এর প্রভাব ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত দেখা যেতে পারে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে AI-এর মাধ্যমে অনেক নিয়মিত কাজ কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু নতুন AI-ভিত্তিক প্রকল্প থেকে এখনও ততটা আয় হচ্ছে না, যা প্রচলিত IT পরিষেবার ঘাটতি পূরণ করতে পারে। JPMorgan-এর মতে, IT সেক্টরে বড় ধরনের পুনরুদ্ধার হতে এখনও সময় লাগবে। তাদের ধারণা, ২০৩০ অর্থবর্ষের আগে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, IT সেক্টরের প্রথম ত্রৈমাসিকের রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বিভিন্ন IT সংস্থাও নিজেদের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। সাধারণত অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে IT সংস্থাগুলির পারফরম্যান্স ভালো থাকে, তবে এবার সেই সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।
JPMorgan-এর পাশাপাশি Citrini Research-এর ‘The 2028 Global Intelligence Crisis’ শীর্ষক রিপোর্টেও একটি সম্ভাব্য খারাপ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, যদি AI খুব দ্রুত মানুষের কাজের জায়গা দখল করে নিতে শুরু করে, তাহলে বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে ভারতের বড় IT সংস্থা TCS, Infosys এবং Wipro-এর প্রসঙ্গ তুলে রিপোর্টে বলা হয়েছে, AI-এর কারণে তাদের বর্তমান ব্যবসায়িক মডেলের উপর চাপ তৈরি হতে পারে।
ভারতীয় IT রফতানির উপরও প্রভাব পড়তে পারে
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের IT পরিষেবা শিল্প প্রতি বছর ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পরিষেবা বিদেশে রপ্তানি করে। কিন্তু ভবিষ্যতে বিদেশি সংস্থাগুলি যদি কম খরচের AI কোডিং টুলের উপর বেশি নির্ভর করতে শুরু করে, তাহলে প্রচলিত IT পরিষেবার চাহিদা কমতে পারে। এর ফলে পরিষেবা রফতানি কমে গেলে ভারতীয় টাকার উপরও চাপ তৈরি হতে পারে এবং ডলারের তুলনায় টাকার মূল্য হ্রাস পেতে পারে। তবে রিপোর্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এটি একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির বিশ্লেষণ, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়।
Nasscom-এর ভিন্ন মত
অন্যদিকে, ভারতের IT শিল্প সংগঠন Nasscom অনেক বেশি ইতিবাচক ছবি তুলে ধরেছে। তাদের মতে, ভারতীয় IT সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই AI-ভিত্তিক পরিষেবা থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করছে।
এছাড়া, প্রায় ২৫ শতাংশ সংস্থা AI-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলিকে পরীক্ষামূলক (Pilot) পর্যায় থেকে বাস্তব কাজে সফলভাবে প্রয়োগ করেছে।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত Nasscom US CEO Forum-এ শিল্প নেতারা জানান, AI প্রচলিত IT পরিষেবার জন্য কোনও হুমকি নয়; বরং এটি নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করছে। তাঁদের মতে, বিশ্বজুড়ে সংস্থাগুলি দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের পথে এগোচ্ছে। ফলে AI-ভিত্তিক পরিষেবার চাহিদা বাড়ছে এবং ভারতীয় IT সংস্থাগুলির সামনে নতুন ব্যবসার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।