এদিকে, ওই প্রতিবেদনের কিছুক্ষণ পরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সোশ্যাল মিডিয়া X-এ একটি পোস্ট করে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে। তাদের দাবি, মঙ্গলবার জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনী পোস্টে লিখেছে, ‘‘মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর উপর আগের দিনের ইরানি হামলার চেষ্টার জোরালো জবাবই হল এই হামলা।’’
বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘‘এবার আমাদের পালা।’’ তিনি দাবি করেন, ইরান স্বীকার করেছে যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি ভুলবশত হয়েছিল এবং তারা ওয়াশিংটনের কাছে পাল্টা হামলা না করার অনুরোধ জানিয়েছিল।
ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা ওদের উপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব, কারণ এবার আঘাত হানার পালা আমাদের। ওরা জানেও এটা হবে।’’
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সর্বশেষ এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হল, যখন গত শুক্রবার থেকে পাঁচ দিনের বিরতি চলছিল। তার আগে টানা ১৩ রাত ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র হামলা চালানো হয়েছিল।
ইরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর:
মার্কিন হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দেশের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের খবর জানায়।ইরানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম IRIB জানায়, বুশেহর (Bushehr) প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রদেশেই ইরানের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অবস্থিত। এছাড়া, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকাতেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম (Tasnim) জানিয়েছে, কেশম (Qeshm) দ্বীপে তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের প্রেস টিভি (Press TV)-ও জানিয়েছে, মার্কিন হামলা শুরুর পর দেশের একাধিক স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
পরবর্তীতে IRIB জানায়, খুজিস্তান (Khuzestan) প্রদেশের আবাদান (Abadan)-এর কয়েকটি এলাকায় মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। উপ-নিরাপত্তামন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমটি আরও জানায়, হরমোজগান (Hormozgan) প্রদেশের বন্দর আব্বাস (Bandar Abbas) শহর এবং আবু মুসা (Abu Musa), কিশ (Kish) ও কেশম (Qeshm) দ্বীপেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। তবে জানা গিয়েছে, সিরিক (Sirik) শহরে কোনও হামলার খবর পাওয়া যায়নি।