Last Updated:
হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার দেহরায় একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। জামাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাতের মামলায় ৭ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে ৯০ লক্ষ টাকা নগদ, ১.৩ কেজি সোনা, হিরের গয়না, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ৮৪১ মার্কিন ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির মোট মূল্য দুই কোটিরও বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিদেশে কর্মরত ওই জামাই তাঁর নগদ অর্থ ও মূল্যবান সম্পত্তি নিরাপদে রাখার জন্য শ্বশুরবাড়িতে রেখে গিয়েছিলেন।
ব্রজেশ্বর সাকি, দেহরা (কাংড়া): হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার দেহরায় শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধেই জামাইয়ের সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল! জানা গিয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই জামাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন। পরে তারা অজুহাত দেয়, গুজরাত পুলিশ নাকি তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গিয়েছে। তবে এখন পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এবং পুলিশ মোট সাতজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে দু’জন অভিযুক্ত আগাম জামিনে রয়েছেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে এখন ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি কাংড়া জেলার দেহরার অন্তর্গত। পুলিশ এখনও পর্যন্ত ৯০ লক্ষ টাকা নগদ, ১ কেজি ৩২৪ গ্রাম সোনার গয়না, হিরে ও রুপোর অলঙ্কার, ৮৪১ মার্কিন ডলার, অভিযোগকারী ও তাঁর স্ত্রীর পাসপোর্ট এবং জমির নথি উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির মূল্য দুই কোটিরও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এসপি সন্দীপ ধাওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে জানান, ২০২৬ সালের ২৯ জুন রক্কড় থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী অবিনাশ, মোভা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জানান, ২০১৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় বিদেশ থেকে আনা সোনা, হিরের গয়না এবং পরে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা প্রায় আড়াই কোটি টাকা নগদ তিনি নিরাপদে রাখার জন্য শ্বশুরবাড়িতে সংরক্ষণ করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১০ মার্চ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর অজান্তেই নগদ অর্থ, গয়না, পাসপোর্ট, জমির কাগজপত্র এবং মার্কিন ডলার অন্যত্র সরিয়ে দেয়। পরে তাঁকে জানানো হয় যে, অজ্ঞাতপরিচয় কিছু ব্যক্তি ওই সমস্ত জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে।
এসপি জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আর.পি. জসওয়াল এবং জ্বালামুখী এসডিপিও-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়। প্রযুক্তিগত প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তে শ্বশুরবাড়ির পক্ষের একাধিক দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। এরপর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যুক্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি পঞ্জাবের দেরাবাসসি থেকে আরও দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও দু’জন বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে রয়েছেন এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এসপি সন্দীপ ধাওয়াল জানান, বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্তদের দেখানো স্থান থেকে খালি ব্যাগ এবং ব্রিফকেসও উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মামলায় মোট সম্পত্তির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। বাকি নগদ অর্থ এবং গয়নাও এই অভিযুক্তদের কাছ থেকেই উদ্ধার হবে বলে পুলিশের আশা।
গুজরাত পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ:
তিনি আরও জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযোগ দায়েরের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন গুজরাত পুলিশ এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থার নাম জড়িয়ে একটি বিভ্রান্তিকর গল্প তৈরি করেছিল। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে তথ্য যাচাই করে, কিন্তু এমন কোনও ঘটনার প্রমাণ মেলেনি। পাশাপাশি অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী নগদ অর্থ ও গয়নার উৎস, তাঁর আয়কর রিটার্ন এবং কেনাকাটার নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে পুরো ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনা যায়।
Kolkata,West Bengal
Aug 06, 2026 10:36 AM IST
