অফিসিয়াল POTUS অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা একটি পোস্টে ট্রাম্প মাস্কের প্রশংসা করেন এবং এই উদ্বেগ খারিজ করে দেন যে ওই ধনকুবের ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও ভুল কাজ করতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, “তিনি খুব ভালো মানুষ। তিনি কোনও ভুল কাজ করবেন না। তিনি অত্যন্ত মেধাবী একজন ব্যক্তি, তা না হলে স্টারলিঙ্কের অস্তিত্বই থাকত না, আর অন্যান্য বিষয়ও থাকত না। কিন্তু ইলন কখনও কোনও ভুল কাজ করবেন না। আমি তাঁকে খুব ভালোভাবে চিনি। তিনি একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি।”

এমন এক সময়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করলেন, যখন স্পেসএক্সের সামরিক-মানের স্যাটেলাইট পরিষেবা ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউক্রেনের উপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়ে নতুন করে নজরদারির মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের সংস্থা।

স্টারলিঙ্ক বিতর্ক কী?

যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ এবং ড্রোন পরিচালনার জন্য ইউক্রেন স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। চলতি মাসের গোড়ার দিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলিতে বলা হয়েছিল, এই ব্যবস্থার সামরিক সংস্করণ ‘স্টারশিল্ড’ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে, যার ফলে ইউক্রেনের কিছু ড্রোন অভিযান প্রভাবিত হয়েছে।

রয়টার্স ১৫ অক্টোবর জানিয়েছিল, মার্কিন আধিকারিকরা বলেছেন, স্টারশিল্ড পরিষেবা সীমিত করার নির্দেশ হোয়াইট হাউসের অন্দর থেকেই এসেছিল। তবে ওই প্রতিবেদনে কে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে, মাস্কের দাবি, স্টারশিল্ডের গতি বা ব্যবহারের উপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট। স্পেসএক্সও জানিয়েছে, স্টারশিল্ড একটি সরকার-নিয়ন্ত্রিত পরিষেবা, যা বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত স্টারলিঙ্ক নেটওয়ার্ক থেকে পৃথক।

পরে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসের তরফে পরিষেবা ধীর করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে যে দাবি উঠেছিল, তা খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে স্পেসএক্স এবং ইলন মাস্কের হাতে।

এরপর ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের কথা হওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করে রয়টার্স জানায়, ট্রাম্প মাস্ককে ফোন করেছিলেন এবং ইউক্রেনের জন্য স্টারলিঙ্ক ব্যবহারের উপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে রিপোর্টে বলা হয়, সিস্টেমটি আরও বেশি গতিতে কাজ করছিল। যদিও ইউক্রেনের আধিকারিকরা জানান, পরিষেবাটি অবিলম্বে সম্পূর্ণ কার্যক্ষম অবস্থায় ফিরে আসেনি।

ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্ক:

একসময় ট্রাম্প ও মাস্ক ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ছিলেন। যদিও ২০২৫ সালে প্রকাশ্যেই তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে। পরবর্তী সময়ে দু’জনের সম্পর্ক ফের স্বাভাবিক হওয়ার দিকে এগোয়। এরপরও ট্রাম্প প্রকাশ্যে মাস্ক এবং তাঁর সংস্থাগুলির প্রশংসা করে চলেছেন।

আমেরিকায় বিভিন্ন বিপর্যয়ের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখতে স্টারলিঙ্কের ভূমিকার কথা বারবার তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। অক্টোবর মাসে তিনি মাস্ক ও স্পেসএক্সেরও প্রশংসা করেন। স্টারলিঙ্ক এবং মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে সংস্থাটির কাজের কথা উল্লেখ করে স্পেসএক্সকে ‘জাতীয় সম্পদ’ বলে অভিহিত করেন তিনি।

তাই ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইউক্রেনের ব্যবহারের উপর বিধিনিষেধ আরোপের জন্য ঠিক কে দায়ী, তা নিয়ে প্রশ্ন এখনও অব্যাহত রয়েছে।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Stack – Multi Purpose HTML with Page Builder StaffScout – Job Board and Employment WordPress Theme Stamin – Fitness and Gym WordPress Theme Stamp – Vibrant WordPress Theme Star Deal – Multipurpose WooCommerce Theme Stardust – Multi-Purpose Portfolio WordPress Theme StarTec – Saas Elementor Template Kit Startio – Saas & Digital Agency Elementor Template Kit Startit – A Fresh Startup Business Theme Startly Template Kit for Startups, SaaS & Software