ঘোষণা অনুযায়ী, এই সমঝোতার শর্তাবলি নির্ধারণ করতে মেলানিয়া ট্রাম্প এবং তাঁর এক প্রতিনিধি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন।
শুক্রবার একটি বিবৃতি দেন খোদ মেলোনিয়া ট্রাম্প৷ সেখানেই তিনি জানান, ‘‘ওলেশকি এমন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর, যা বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আমার হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং প্রবীণ নাগরিকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কার্যত অসম্ভব ছিল।”
হোয়াইট হাউসের ঘোষণা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় দুই দেশের অসামরিক প্রতিনিধিরা শহরের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং তাঁদের কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার, ওষুধ, পানীয় জল ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ পথ ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁরা রাশিয়া অথবা ইউক্রেনের নিরাপদ এলাকায় যেতে পারবেন। কোন দেশে যাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাসিন্দাদের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া, নিরাপদে যাতায়াতের পথ তৈরি করতে মাইন সরানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও করতে হবে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় দুই দেশের অসামরিক প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
যুদ্ধবিরতি ও উদ্ধার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি স্বাধীন মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের দলগুলির সঙ্গে থেকে গোটা প্রক্রিয়ার নথিবদ্ধ করবেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ইচ্ছাকে সম্মান করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ওলেশকিতে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারে। তবে ২৯ অক্টোবর থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং এর ফলে কতজন মানুষ নিরাপদে সাহায্য পান বা শহর ছাড়তে পারেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে। বৃহত্তর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উপর এই উদ্যোগের কোনও প্রভাব পড়বে কি না, তা বলার সময় এখনও আসেনি।
ইউক্রেনের দক্ষিণ খেরসন অঞ্চলে নিপ্রো নদীর ওপারে অবস্থিত ওলেশকি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম দিক থেকেই শহরটি রুশ দখলে রয়েছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতের জেরে শহরটিতে মানবিক সংকট ক্রমশ গভীর হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন বলে জানা গিয়েছে। যুদ্ধের কারণে শহর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার পথগুলিও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ফলে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ নিয়ে এর আগেও রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আবু ধাবিতে ফের শান্তি আলোচনা রাশিয়া, ইউক্রেন ও আমেরিকার৷