Last Updated:
হাম্মাম আল-হাম্মামি নামে চিহ্নিত ওই কো-পাইলট যাত্রীবাহী বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে থাকতে পারেন।
দুবাই: ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ককপিটের ভিতরে ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে হামলা করা ওমানি কো-পাইলট বিমানটিকে তেল আভিভের একটি বহুতল বিল্ডিংয়ে ধাক্কা মেরে ক্র্যাশ করাতে চেয়েছিলেন।
ইতালির সংবাদপত্র ‘Corriere Della Sera’-য় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী বিমানটিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কো-পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামি (Hammam al-Hammami) বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে থাকতে পারেন। ফ্লাইদুবাইয়ের ককপিটে হামলার বিস্তারিত পুনর্গঠনে কো-পাইলট আল-হাম্মামি কীভাবে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে হামলা করেছিলেন বলে অভিযোগ, তা উঠে এসেছে। ইতালির দৈনিকটি এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য, বিমানকর্মীদের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া রিপোর্ট, বিমানবন্দরের কর্মী এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের বক্তব্য এবং বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্মের তথ্যের ভিত্তিতে।
স্মিত মচ্ছারকে হত্যা করে বিমানটি তেল আভিভের আকাশচুম্বী ভবনে ধাক্কা মারার পরিকল্পনা ছিল কো-পাইলটের:
প্রতিবেদনে ইজরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, আল-হাম্মামির প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল মচ্ছারকে হত্যা করে বিমানটিকে তেল আবিবের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং একটি আকাশচুম্বী ভবনে ধাক্কা মেরে বিমানটিকে ভেঙে ফেলা। অভিযোগ, হামলার আগে তিনি প্রার্থনা করার ভান করেন। এরপর ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স বা জরুরি কুঠারটি নিয়ে পিছন দিক থেকে ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালান।
প্রথমে মচ্ছার মনে করেছিলেন, বিমানের কোনও ভাঙা অংশ দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁর উপর হামলা করা হচ্ছে। মাথায় গুরুতর আঘাত, হাতে গভীর ক্ষত এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে যাত্রী এবং ডিউটিতে না থাকা দুই পাইলট হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ পান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরপর আল-হাম্মামি অটোপাইলট বন্ধ করে কন্ট্রোল স্টিক ঠেলে দেন। এর ফলে বিমানটি তীব্র গতিতে নীচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র ৩০ সেকেন্ডে বিমানটি প্রায় ১৬,০০০ ফুট উচ্চতা হারায় এবং ঘণ্টায় ৯৭০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে পৌঁছে যায়। এই সময় বিমানের লেজের রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কো-পাইলট বিমানের ইঞ্জিনের ফুয়েল সুইচ ‘Run’ থেকে ‘Cutoff’ অবস্থায় সরিয়ে দিয়েছিলেন কি না। প্রতিবেদনে ঘটনাকালীন কেবিনের জরুরি আলো জ্বলে ওঠার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
“আসনগুলির মাঝখান থেকে এবং ফার্স্ট অফিসারকে থামানোর চেষ্টার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে কেবিনের জরুরি আলো দেখা যাচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতিতে বিমান থেকে যাত্রীদের দ্রুত বের করে দেওয়ার জন্য, অথবা বিমানটি মাটিতে থাকলে এবং যাত্রীদের নেমে যেতে হলে, এই আলো ব্যবহার করা হয়। অথচ উচ্চ আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় এই আলো জ্বলে ওঠে। কেন?… বোয়িং ৭৩৭ বিমান তার প্রধান বিদ্যুৎ সরবরাহের উৎস হারিয়ে ব্যাটারি পাওয়ারে চলে গেলে জরুরি আলো সক্রিয় হয়। এমনটা ঘটতে হলে হয় জেনারেটরগুলি বন্ধ করা হয়েছিল, অথবা দু’টি ইঞ্জিনই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল,” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত যাত্রীরা আল-হাম্মামিকে ধরে ফেলেন। এদিকে ডিউটিতে না থাকা পাইলটরা বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিরাপদে তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। মাচ্ছারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং কো-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ইজরায়েল এই ঘটনাকে “সন্ত্রাসবাদী হামলা” হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং দেশটির নিরাপত্তা নীতি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ওমানি পাইলটকে তেল আবিবে উড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখছে।
