Last Updated:
বাংলার পর্বতারোহীদের মুকুটে নয়া পালক। দুর্গম মূলকিলা/ দ্যা সিলভার গড (M4,6517m) ও স্পাইক (M5, 6370m) সামিট সম্পূর্ণ করেছেন বাঙালি পর্বতারোহীদের একটি দল।
আবির ঘোষাল, কলকাতা: সোনারপুর ‘আরোহী’র সেলফ সাপোর্টেড মূলকিলা/ দ্যা সিলভার গড (M4,6517m) ও স্পাইক (M5, 6370m) অভিযানের দল শুক্রবার রাতে মানালি ফিরেছে। গত ৩১ মে কলকাতা থেকে ৮ সদস্যের একটি দল চণ্ডীগড়, মানালি হয়ে হিমাচল প্রদেশের লাহুল স্পিটি জেলার দারচার কাছাকাছি রোড হেড, ইওচে গ্রামে পৌঁছায় ৩ জুন সন্ধ্যায়।
এবারের দলে ছিলেন, রুদ্রপ্রসাদ হালদার (লিডার), নৈতিক নস্কর, দেবাশীষ মজুমদার, তুহিন ভট্টাচার্য, সুব্রত চক্রবর্তী, দীপাশ্রী পাল, অনির্বাণ তালুকদার ও অপরেশ সন্নিগ্রহী ।
মিলাং-এর M দিয়ে M-1, M-2 থেকে M-10 পর্যন্ত মোট দশটি পর্বত রয়েছে। মূলকিলা/ দ্যা সিলভার গড/ M-4 — এদের মধ্যে সর্বোচ্চ । ১৯৩৯ সালে প্রথমবার ব্রিটিশ পর্বতারোহিরা এই পর্বত ক্লাইম্ব করে। অন্যদিকে ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলিয়ান পর্বতারোহীরা প্রথমবার m5 বা স্পাইক ক্লাইম্ব করতে সফল হন।

নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তাঁরা জানান, ‘‘গত ৫ জুন বেসক্যাম্পে পৌঁছে প্রথম ৫-৬ দিন ওয়েদার দারুণ ছিল। তারপর থেকে আবহাওয়া উত্তরোত্তর খারাপ হতে থাকে। অভিযানের মাঝপথে তুহিনের পায়ে চোট লাগায় সে একাই বেস ক্যাম্পে থাকতে বাধ্য হয় বাকি সময়ের জন্য। ফুটিফাটা ক্রিভাসে ভরা মূলকিলা হিমবাহের উপর দিয়ে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে লোড ফেরী চলতে থাকে। দুটো ভীষণ কঠিন পর্বত হওয়ায় প্রচুর ইকুইপমেন্ট ও ফুড সামিট ক্যাম্পে পৌঁছতে সময় লাগে ১৮ জুন পর্যন্ত। ইতিমধ্যে দল মূলকিলার (M-4) এর 6277 মিটার পর্যন্ত প্রায় 400 মিটারের 80 ডিগ্রির আইস ওয়ালে রোপ ফিক্সড করে সামিট রিজে পৌঁছায় দুদিনে। ১৮ জুন রাতেই ঠিক হয় অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার স্পাইকে এটেম্পট হবে পরের দিন। আমরা বুঝতে পারছিলাম সব সম্ভাবনা আস্তে আস্তে ওয়েদারের কারণে হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার জোগাড় হচ্ছে। তাই ১৯ তারিখে ভোর ৫টায় সামিট ক্যাম্প ছেড়ে অ্যালপাইন স্টাইলে ৫৭৬০ মিটারের সামিট ক্যাম্প থেকে ৬৩৭০ মিটারের স্পাইকের উদ্দেশ্যে বের হয় সাত জন । ক্যালকুলেশন ভূল হয়। সেদিন ছিল এবারের অভিযানের সবথেকে খারাপ দিন। আবহাওয়ার কারণে। ৬০৫০ মিটারে উঠে এলাম দুই ঘণ্টার মধ্যে। দুর্যোগ আরও বাড়ল। সেখানেই গোল হয়ে ভীষণ ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে কোনওরকমে (গান গেয়ে) দু-ঘণ্টা নিজেদেরকে কোনওরকমে কাটানোর পরে ওয়েদার সামান্য ধাতস্থ হতে সকাল ন’টায় ৭০-৮০ ডিগ্রির দেওয়াল ধরে শেষ ক্লাইম্ব চলল রোপ আপে। শেষ ১০০ মিটার ৬০ থেকে ৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত বা একটি জায়গায় ওভারহ্যাং ক্লাইম্ব করল নৈতিক আর দেবাশীষ।

ফিক্সড রোপে শেষ ১০০ মিটার রক ক্লাইম্ব করে স্পাইকের মাথায় উঠে এল শেষমেশ দলের রুদ্রপ্রসাদ হালদার, নৈতিক নস্কর, দেবাশীষ মজুমদার, সুব্রত চক্রবর্তী, দীপাশ্রী পাল, অনির্বাণ তালুকদার ও অপরেশ সন্নিগ্রহী বিকেল ৫.৩০ মিনিটে । ট্রু সামিটে জিপিএস রিডিং দিল ৬২৮৮ মিটার। বাস্তবে স্পাইকের উচ্চতা ম্যাপে দেখানো আছে ৬৩৭০ মিটার। সেদিন ছিল এই অভিযানের সবথেকে খারাপ আবহাওয়ার দিন। সামিট করে ফেরার পথে একটা ১০ সেকেন্ডের সিনেম্যাটিক ২০ মিটারের ফল হয় পুরো দলের রোপ আপে ক্লাইম্ম্ব ডাউন করার সময়। মুহূর্তের মধ্যে অ্যারেস্ট করতে পারি আমরা নিজেদেরকে । শেষমেষ রাতে ১৮ ঘণ্টার সামিট মার্চ শেষে সামিট ক্যাম্প পৌঁছায় পুরো দল সেফলি। M5 বা স্পাইক ক্লাইম্ব করে সাতজন। ২০ তারিখ সারাদিন ওয়েদার আরও খারাপ হয়। আমরা ডিসিশন নিতে বাধ্য হই সামিট ক্যাম্প ছাড়ার। কারণ 23 তারিখে মানালি ফিরতেই হবে। তাই ভীষণ খারাপ কন্ডিশনের মধ্যেই সামিট ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে কোনওরকমে ক্যাম্প টু গুটিয়ে রাতে ক্যাম্প ওয়ান পৌঁছলাম সমস্ত মালপত্র গুটিয়ে রাত এগারোটায়। অধরা রয়ে গেল মূলকিলা এবারেও। আমরা এখন সবাই সুস্থ। ২৭ জুন সকালে কলকাতা পৌঁছবে সবাই। কোনওরকম কোনও সাপোর্ট ছাড়াই পুরোপুরি নিজেদের চেষ্টায় এম ফাইভের মতো টেকনিক্যালি চ্যালেঞ্জিং পিক ক্লাইম্ব করতে পেরে দলের সবাই খুব খুশি।’’
Kolkata,West Bengal
Jun 27, 2026 10:20 AM IST
