কলকাতা : শনিবার বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত ফিরল নিথর দেহ। তারাতলাকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে শ্যামনগরের শ্রমিক সুমন কর্মকারের। পরিবারের দাবি, প্রতিদিনের মতোই কাজের উদ্দেশে তারাতলায় গিয়েছিলেন তিনি। দুর্ঘটনার পর থেকে তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিবারের কাছে খবর আসে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল যে প্রথমে তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে হাতের আঙুলে থাকা আংটি দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করেন। সুমন কর্মকারের মৃত্যুর দুঃসংবাদ পৌঁছাতেই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী-সহ আত্মীয় স্বজন।
সুমন কর্মকারের বোন সীমা কর্মকার বলেন, “সুমনই রোজগার করত। আমার বাবার একটা পা…বলতে গেলে খোঁড়া মানুষ। ওইভাবেই সংসার চলতে আমাদের। এখন কীভাবে সংসার চলবে ! প্রশাসনের কাছে আমার একটাই কথা…সরকারের কাছে যে, এই সময়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াক। আমরা চাইছি, চাকরির দিক দিয়ে হোক বা আর্থিক সাহায্য, আমাদের সাহায্য করুক। শুধু আমার জন্য নয়, আমি সবার জন্য ক্ষতিপূরণ চাই সরকারের কাছে। এর উপযুক্ত শাস্তি চাইছি। যারা যারা এর সঙ্গে জড়তি…আমরা তো জানি না কে আছে, কে নেই…বড় বড় মাথা যতগুলো আছে সবক’টাকে যেন টেনেহিঁচড়ে বের করা হয়।”
সুমনের স্ত্রী শিখা কর্মকার বলেন, “ওখানে নতুনই গিয়েছিল কাজে। মঙ্গলবার রাতে গেছে। বুধবার এই ঘটনা হয়েছে। পরিবারে আমার দুই ছেলে, আমি আর স্বামী ছিলেন। এখন তো আর আমার স্বামী নেই। আয় করার কেউ নেই। সেটাই তো বুঝতে পারছি না কী করে….। এখন মুখ্যমন্ত্রী যদি আমাদের সাহায্য করেন তাহলে খুব ভাল হয়। আমরা যাতে খেয়ে পরে বাঁচতে পারি সেই ব্যবস্থা করে দিলে ভাল হয়। দোষীদের যেন চরম শাস্তি হয়। আমাদের মতো যেন আর কারো এরকম না হয়।”
তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ে চতুর্থদিন, এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৬। এর মধ্য়ে ১ জনের দেহ এখনও শনাক্ত করা যায়নি, এমনই খবর হাসপাতাল সূত্রে। তারাতলা বিপর্যয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১৩। গতকাল ১৭ জনের মধ্য়ে ৪জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভেঙে পড়া লোহার বিমের নীচে এখনও কি কেউ চাপা পড়ে আছে ? চলছে খোঁজ।
Rudranil Ghosh: দফায় দফায় বর্ষণের জের, জলমগ্ন হাওড়ার জগাছা, ঘুরে দেখলেন শিবপুরের MLA