Last Updated:
India Pakistan Relation:
নয়াদিল্লি: জাতিসংঘের মঞ্চে আবারও পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিল ভারত। আমাদের প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের দুর্দশার কথা সবাই জানে। বিশেষ করে এখানে হিন্দু মেয়েদের উপর নৃশংসতা আন্তর্জাতিকভাবেও যথেষ্ট আলোচিত হয়। এহেন পাকিস্তান বিশ্বের বৃহত্তম মঞ্চে সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে বক্তৃতা দিচ্ছিল। তাতেই ভারত তুমুল কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যা কার্যত রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ধরাশায়ী করেছে ভারতের প্রতিবেশী দেশটিকে।
বিশ্বের বৃহত্তম মঞ্চ জাতিসংঘে এদিন পাকিস্তানের ভারত-বিদ্বেষের এক সুস্পষ্ট প্রমাণ আবারও স্পষ্ট হল। শীর্ষ মঞ্চ থেকে এদিন সংখ্যালঘুদের অধিকার বিষয়ে ভারতকে পাঠ পড়ানোর চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ভারতীয় প্রতিনিধি তার এমন যুৎসই জবাব দেন যা প্রতিবেশী দেশটিকে কার্যত চুপ করিয়ে দেয়।
পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের দুর্দশার কথা সারা বিশ্ব জানে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কন্যাদের উপর চলতে থাকা নৃশংসতা দেশটিতে কোনও গোপন বিষয় নয়। পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর সালমান তাসিরকে ধর্ম অবমাননা আইনের বিরোধিতা করার জন্য গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। বস্তুত হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনার এক দীর্ঘ তালিকা রয়েছে সেখানে। পাকিস্তানে ক্রমাগত কমতে থাকা সংখ্যালঘু জনসংখ্যাই এই প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের উপর চালানো নৃশংসতার অন্যতম প্রমাণ। যখন এহেন পাকিস্তানই আবার সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে শুরু করে, তখন ভারতও তার যোগ্য জবাব দিয়ে দেয় জাতিসংঘের মঞ্চে।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে ভারত পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিয়েছে। ভারতের প্রতিনিধিত্বকারী সচিব রঘু পুরী বলেন, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা প্রতিটি দেশের সার্বভৌম দায়িত্ব এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী দেখা উচিত। একইসঙ্গে এদিন জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভারত জানায়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বহু-ধর্মীয়, বহু-জাতিগত এবং বহুভাষিক সমাজ, যেখানে বৈচিত্র্য সভ্যতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতীয় সংবিধানে ধর্মীয় ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের অধিকারের জন্য শক্তিশালী বিধান রয়েছে।
পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে রঘু পুরি তাঁর ভাষণে বলেন, তাদের প্রতিনিধিদল ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্য জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করছে। তিনি পাকিস্তানের ক্রমশ নামতে থাকা অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি উত্থাপন করেন। জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারত জানায়, এটি দেশের একটি অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ। এদেশে এখন একমাত্র বিষয় হল পাকিস্তানের অবৈধভাবে দখল করা ভূখণ্ডটির মুক্তি।
এর আগে, ভারত ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে পাকিস্তানকে প্রশ্ন করেছিল। ইসলামাবাদ কোনও জবাব দিতে পারেনি। ভারত অভিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টারের একটি প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘে ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি ভাবিকা মঙ্গলানন্দন ভারতের পক্ষ থেকে এর জবাব দিয়েছেন। প্রতিবেদনটির কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তুলে মঙ্গলানন্দন বলেন, এতে বলা হয়েছে যে কোভিড-১৯ মহামারির সময় সমস্ত অন্যায় কেবল “গ্লোবাল সাউথ”-এ (উন্নয়নশীল দেশগুলিতে) ঘটেছে, অথচ উন্নত দেশগুলিতে একই রকম মর্মান্তিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।
ভাবিকা মঙ্গলানন্দন তাঁর ভাষণে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন যে মানবাধিকার কর্মীরা সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেয়। নিরীহ ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগের কথা পুরোপুরি ভুলে যাওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয়দানকারী দেশগুলির মুখোশ খুলে দিয়ে জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে একটি জোরালো বার্তা দেন। তাঁর বার্তায় ভারতের তরফে তিনি স্পষ্ট জানান, এই দ্বৈত নীতি সহ্য করা যায় না। এই প্রসঙ্গে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ভুক্তভোগীদের পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়াই বিশ্বের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
