সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির বিধান ফের কার্যকর করতে হলে তা সংশোধিত কাঠামোয় নতুন করে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্গঠন করতে হবে। তবে এমন কোনও পদক্ষেপ তখনই বিবেচনা করা হবে, যখন ইসলামাবাদ স্থায়ীভাবে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করবে।
৬৫ বছরেরও বেশি পুরনো এই জলবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সরকারি সূত্রগুলি জানায়, ভবিষ্যতে যদি এই চুক্তির অধীনে সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয়, তবে তা বর্তমান চুক্তির আওতায় নয়, বরং একটি সংশোধিত ও নতুন কাঠামোর অধীনে হবে। সূত্রগুলির দাবি, পাকিস্তানের ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদে মদতই এই চুক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।
এক সরকারি সূত্র বলেন, “এটা বলা যথার্থ হবে যে বর্তমান রূপে সিন্ধু জল চুক্তি আর কখনও কার্যকর হবে না। যদি নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিধানগুলি ভবিষ্যতে আবার চালু করতে হয়, তবে তা বর্তমান কাঠামোয় নয়, ভিন্ন একটি কাঠামোর অধীনে করতে হবে। আর সেটিও তখনই সম্ভব হবে, যখন পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে সন্ত্রাসবাদের পথ ত্যাগ করবে।”
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
এই স্থগিতাদেশ ছিল ওই হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ঘোষিত একাধিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের অংশ। ভারতের দাবি, হামলাটি চালিয়েছিল দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF), যাকে তারা পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা (LeT)-র একটি প্রক্সি সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এরপর মে মাসে ভারত অপারেশন সিঁদুর শুরু করে, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানে অবস্থিত বলে দাবি করা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর উপর অভিযান চালানো।
এখনই চুক্তি থেকে সরে আসছে না ভারত:
সরকারি সূত্রগুলি স্পষ্ট করেছে যে, এই মুহূর্তে ভারত সিন্ধু জল চুক্তি (Indus Waters Treaty) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে যাওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে না। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দেশের স্বার্থবিরোধী বলে মনে হলে যে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে সরে আসার অধিকার ভারতের রয়েছে।
এক সরকারি সূত্রের বক্তব্য, “(সিন্ধু জল চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি) ভবিষ্যতে পাকিস্তান কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপর নির্ভর করবে।”
সূত্রগুলির মতে, এই চুক্তির ভবিষ্যৎ মূলত নির্ভর করবে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ভেঙে ফেলা এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধে বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না, তার উপর।
পাকিস্তানের জলসঙ্কচের দাবিকে খারিজ ভারতের:
সরকারি সূত্রগুলি পাকিস্তানের সেই দাবিও খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে ভারত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখায় পাকিস্তানে জলসঙ্কট তৈরি হয়েছে।
বরং সূত্রগুলির দাবি, পাকিস্তান যে পরিমাণ জল পায়, তারই বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায় দুর্বল জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্যাপক জল অপচয় ও পাইপলাইনের লিকেজ, এবং দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে জলবণ্টন সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিরোধের কারণে।
সূত্রগুলির অভিযোগ, নিজেদের অভ্যন্তরীণ জল ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলি আড়াল করতে ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে দোষ চাপিয়ে একটি “ভুয়ো বয়ান” বা “মিথ্যা প্রচার” তৈরির চেষ্টা করছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, ভারতের বারবার উদ্বেগ প্রকাশ সত্ত্বেও সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তান অর্থবহ কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে বলে এখনও কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।