নয়াদিল্লি: নিজের আলাদা দেশ তৈরি করলেন যুবক। নিজেকে সেই দেশের প্রেসিডেন্টও ঘোষণা করলেন তিনি। এবার তাঁকে পুরস্কৃত করল রাষ্ট্রপুঞ্জ। এখনও পর্যন্ত খাতায় কলমে পৃথক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি মেলেনি। তবে সবরকম চেষ্টাচরিত্র চালিয়ে যাচ্ছেন ওই যুবক। স্বীকৃতি মিললে সেটি হবে পৃথিবীর দ্বিতীয়তম ক্ষুদ্র দেশ।

ব্রিটেনের বাসিন্দা ২১ বছর বয়স ড্যানিয়েল জ্যাকসন নিজের পৃথক দেশ তৈরি করেছেন। নিজের দেশের নাম রেখেছেন Free Republic of Verdis (ভারডিস). তবে ২১ বছর বয়সে নয়, মাত্র ১৪ বছর বয়সেই পৃথক দেশ তৈরির কথা প্রথম মাথায় আসে তাঁর। কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে মিলে সেই কাজে লেগে পড়েন।

কৃষ্ণসাগর, এড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর দ্বারা বৈষ্টিত বলকান পর্বতমালা অঞ্চলের অন্তর্গত ছোট্ট একটি ভূখণ্ড Verdis. দানিয়ুুব নদী বরাবর ক্রোয়েশিয়া এবং সার্বিয়ার মাঝে অবস্থিত সেটি। দুই দেশের মধ্যে বহু দিন ধরে সীমান্ত সংঘাত চললেও, ছোট্ট ভূখণ্ডটির উপর মালিকানা দাবি করেনি কোনও দেশই।


আরও পড়ুন: নেতাজীকে অসম্মান, ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, প্রভাসের ছবি ‘ফৌজি’ ঘিরে বিতর্ক, ‘ক্ষমা চাইতে হবে’, বললেন চন্দ্র বসু

সেই আবহেই ২০১৯ সালের ৩০ মে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে ওই ভূখণ্ডটিকে আলাদা দেশ বলে, তার উপর অধিকার কায়েম করেন ড্যানিয়েল। তিনটি পকেটে বিভক্ত ভূখণ্ডটির নাম রাখেন Free Republic of Verdis. নিজেকেই দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন তিনি। দেশটিকে গড়ে তুলতে সেই থেকে কাজ করে চলেছে। নিউ ইয়র্কে মানবিক কাজের জন্য তাঁকে এবার পুরস্কৃত করল রাষ্ট্রপুঞ্জ।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হয়েছে ড্যানিয়েলকে। আইভরে কোস্টের ভার্ডিসের মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। ‘ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি রিসার্চ’ তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেয়। 

পুরস্কার হাতে নিয়ে ড্যানিয়েল বলেন, “ঘটনাবহুল সময়ে দাঁড়িয়ে দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার। উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে বিশিষ্টজনেদের উপস্থিতিতে যদিও বা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। আমার বয়স সবে ২১ বছর। এমন অনুষ্ঠানে ডাক পাওয়া, তাবড় ব্যক্তিবর্গের মাঝে উপস্থিত হওয়ার উত্তেজনা কাটিয়ে ধাতস্থ হতে চাইছি।”

আরও পড়ুন: খাঁটি সোনার রাস্তা তৈরি করছে দুবাই, ২৪ ক্যারাট ছাড়া অন্য কিছু নয়, পৃথিবীতে এই প্রথম

এর পর, ৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভার ‘যুব সংহতি’ পর্বে বক্তৃতা করতেও আমন্ত্রণ জানানো হয় ড্যানিয়েলকে। Verdis-এর মানবিক সহযোগিতা বিভাগের মন্ত্রী জেফ্রি লি সেখানে বক্তৃতা করেন। তাঁর কী কাজ করছেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা তুলে ধরেন তিনি। 

Verdis-এর আয়তন প্রায় ১২৫ একর। স্বীকৃতি পেলে, ভ্যাটিক্যান সিটির পর পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে গণ্য হবে সেটি। ক্রোশেশিয়ার ওসিজেক থেকে জলপথে Verdis-এ প্রবেশ করতে হয় এই মুহূর্তে। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার তরফে সেই কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ড্যানিয়েলের। তাঁকেও নিষিদ্ধ করেছে ক্রোয়েশিয়া। উপকূল বরাবর ক্রোয়েশিয়া ক্যামেরা বসিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকি সার্বিয়া থেকেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, তাঁরা নির্বাসনে থেকে সরকার চালাচ্ছেন বলেও দাবি করেন।

তবে সার্বিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন ড্যানিয়েলরা। সেখানকার নাগরিকত্ব পেয়েছেন তিনি। আগে থেকেই নিজেকে ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়া, দুই দেশের নাগরিক বলে তুলে ধরছিলেন ড্যানিয়েল। Verdis-এর পতাকা, পাসপোর্ট, মন্ত্রিসভা, আইন এমনকি প্রতীকও তৈরি করে ফেলেছেন। ডোভার এবং সার্বিয়ার নোভি সাডে খুলে ফেলেছেন দূতাবাসও। 

আপাতত Verdis-এর নাগরিক সংখ্যা ৪০০ বলে জানিয়েছেন ড্যানিয়েল। তিনটি ভাষাকে অনুষ্ঠানিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ইংরেজি, ক্রোয়েশীয় এবং সার্বীয়। দেশের মুদ্রা ইউরো। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশের অনুরাগীর সংখ্যা বাড়ছে। নাগরিকত্ব চেয়ে প্রতি মাসে ১০০–এর বেশি ইমেল আসে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে ভূখণ্ডের আয়তনের নিরিখে নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করতে হচ্ছে তাঁদের। 



By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Connection – Creative Agency WordPress Theme Conpress – Construction Service Elementor Template Kit Consession – Conference & Seminar Elementor Template Kit Conset – Business Consulting Elementor Template Kit Consilt – Business & Consulting Elementor Template Kit Constitute WP – WooCommerce Responsive Elementor Theme Constkit – Construction and Industrial Elementor Template Constructa – Building & Construction Elementor Template Kit Construction – Building & Renovation WordPress Theme Constructo – Construction WordPress Theme