উজাইর বালোচের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে ২০২৫ সালের বলিউডের ব্লকবাস্টার ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ভারতীয় অভিনেতা দানিশ পান্ডর। চলতি বছরের মার্চ মাসে মুক্তি পাওয়া ছবিটির দ্বিতীয় পর্বেও সেই চরিত্রটি ছিল।
পাকিস্তানি সংবাদপত্র Dawn-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সি জুবায়েরকে প্রধান চাকিওয়ারা রোডে গুলি করা হয় এদিন। এ ঘটনায় দুই পথচারীও গুরুতর আহত হন। হামলার পর আততায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আহতদের করাচির সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুবায়েরের বুক ও পেটে একাধিক গুলি লাগে এবং তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
লিয়ারিতে কী ঘটেছিল?
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে দক্ষিণ করাচির ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুবায়ের সিঙ্গু লেনে নিজের বাড়ির বাইরে বসে ছিলেন। সেই সময় মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়।
কে এই জুবায়ের বালোচ?
দক্ষিণ করাচির ডিআইজি সৈয়দ আসাদ রাজা ডন-কে জানান, ২০১২ সালে জুবায়ের বালোচকে সাতটি ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি মুক্তি পান।
এদিকে, এক স্থানীয় সমাজকর্মী জানান, কয়েক মাস আগে জুবায়ের একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছিলেন এবং নিজের এলাকায় ওই দলের পতাকা লাগিয়েছিলেন।
ওই সমাজকর্মী আরও জানান, লিয়ারি এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এই গুজবকে ঘিরে যে, করাচি অভিযানের পর দুবাই ও ইরানে পালিয়ে যাওয়া কয়েকজন গ্যাংস্টার আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সংঘাত চলায় আবার ফিরে এসেছে।
উজাইর বালোচের (Uzair Baloch) জামিনের আবেদন খারিজ:
এই গুলির চলার ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত (এটিসি) উজাইর বালোচের দায়ের করা সাতটি জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। মামলাগুলি খুন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং বিস্ফোরক রাখার অভিযোগ সংক্রান্ত।
এর আগে, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে একটি সামরিক আদালত গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে উজাইর বালোচকে দোষী সাব্যস্ত করে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
২০১২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপর আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার করে হামলা চালানোর অভিযোগে উজাইরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।