পাটনা: বিহারের রাজনীতিকে এক নতুন বাঁকের সামনে দাঁড় করিয়েছে বিহারের বাঁকিপুর। ‘নবীন’ আসনে ‘কিশোর’ যুগ শুরুর সাক্ষী হয়েছে গোটা দেশ। খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির ছেড়়ে যাওয়া আসনে বিজেপিকে হারিয়ে জিতেছেন প্রশান্ত কিশোর।
৩১ বছর ধরে রাজধানী পাটনার বুকে থাকা এই আসন বিজেপির থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন প্রথমবার ভোটের ময়দানে নামা একদা ভোট-কুশলী প্রশানত কিশোর। বিহারের এই উপনির্বাচনের ফলাফলে নানা কারণে অত্য়ন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার অন্য়তম হল সম্প্রতি ছাত্র-যুবদের আন্দোলন! প্রশ্ন ফাঁস ইস্য়ুতে Gen Z -র যে আন্দোলন মোদি সরকারকে কার্যত নতি স্বীকারে বাধ্য় করেছে, তার পর এই প্রথম কোনও নির্বাচনের ফল বেরোল। আর তাতেই বিজেপি ধরাশায়ী হল।
দিল্লির যন্তরমন্তরের পর যে রাজ্য়গুলিতে Gen Z-র আন্দোলনের ঝাঁঝ সবচেয়ে বেশি ছিল, তার মধ্য়ে অন্য়তম বিহার। সেখানে আন্দোলন সামলাতে পুলিশকর্মীর হাতে AK-47 দেখার পর দেশজোড়া সমালোচনার ঝড় উঠেছিল! আর তাই বিজেপি শাসিত বিহারে উপ নির্বাচনে হাইপ্রোফাইল গড়ে, বিজেপির পরাজিত হওয়ার নেপথ্য়ে জেন জির আন্দোলনও বড় কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জন সুরজ পার্টির জয়ী প্রার্থী প্রশান্ত কিশোর জানিয়েছেন, ‘বিজেপিকে তাদের অহঙ্কার হারিয়েছে। আপনি যদি একটা পরীক্ষায় ফেল করেন, তারপরও যদি আচরণ না বদলান, পড়াশোনার ধরন না বদলান, তাহলে ঝুঁকি থাকে আপনি ফাইনাল পরীক্ষাতেও হারতে পারেন।’
তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই প্রেক্ষাপটেই বৃহস্পতিবার Gen Z এবং Gen আলফা-র সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নিতে চলেছেন RSS প্রধান মোহন ভাগবত। যেখানে অংশ নেবেন সকুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা। জেন-জির আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরাতে বাধ্য় হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। একের পর এক ভিডিও বার্তা দিতে হয়েছে তাঁকে। যাদের হাত ধরে এই আন্দোলনের শুরু, সেই ককরোচ জনতা পার্টির দাবি, এই আন্দোলনই RSS-কে বাধ্য় করেছে তাদের কথা শুনতে। অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ‘দেশের তরুণরা বাধ্য় করেছে, যার জন্য় নরেন্দ্র মোদিকে রাত ১১টায় ইনস্টাগ্রামে রিল দিতে হচ্ছে। মোহন ভাগবতের Gen z-র সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছে। দেরিতে হলেও, এরা বুঝতে পারছে Gen z-কে উপেক্ষা করা যায় না, খারিজ করা যায় না, কথা বলতে হবে। কথা বললেই ভাল। এরা দেশের ভবিষ্য়ৎ।’
বিভিন্ন সূত্রের বক্তব্য়, ২০২৯ সালে ভারতে ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্য়া হবে দেশের মোট জনসংখ্য়ার প্রায় ২৫ শতাংশ আর তাই এই ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবে, কাকে দেবে, তার ওপর অনেকাংশেই নির্ভর করবে, ক্ষমতায় কে আসবে, কে যাবে।