ইজরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, বিমানের মূল চালক বা ক্যাপ্টেন ছিলেন ‘ভারতীয় বংশোদ্ভূত’, তবে ওয়াইনেট নিউজ তাঁকে স্পষ্টতই ‘ভারতীয় নাগরিক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে, বিমানটিকে ক্র্যাশ করিয়ে বা হাইজ্যাক করে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটানোর চেষ্টা করেছিল ওমানের নাগরিক তথা বিমানে কর্মরত কো-পাইলট।
পাইলটদের মধ্যে হিংসাত্মক মারামারির ঘটনায় কো-পাইলটের সঙ্গে সংঘর্ষের পর রক্তে ভিজে যাওয়া স্মিত মাচ্ছরকে নিয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
স্মিত মাচ্ছর: প্রাক্তন স্পাইসজেট পাইলট, ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন:
স্মিত মাচ্ছর, যিনি আগে স্পাইসজেটের পাইলট ছিলেন, ২০২২ সালের জুন মাসে ডাইরেক্ট-এন্ট্রি ক্যাপ্টেন হিসেবে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তাঁর ১৩ বছরেরও বেশি বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং বোয়িং ৭৩৭ বিমানে প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মধ্যে B737-800 এবং B737 MAX 8/9-ও রয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে মাচ্ছর ১১ বছরেরও বেশি সময় স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি সিনিয়র কমান্ডার এবং পরে লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর প্রোফাইল অনুযায়ী, ওই বিমানসংস্থায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি ৯,৫০০ ঘণ্টারও বেশি উড়ান সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে ৬,৪০০ ঘণ্টারও বেশি সময় পাইলট-ইন-কমান্ড হিসেবে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি লাইন ট্রেনিং, পাইলট চেক এবং মেন্টরিংয়ের কাজও করেছেন।
তাঁর পেশাগত প্রোফাইলে ক্রু রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড, নিয়ম মেনে চলা এবং বোয়িং ৭৩৭ পরিচালনার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে কী ঘটেছিল?
ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটটি প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যকে নিয়ে দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সেই সময় ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এরপর বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সেটি নিরাপদে অবতরণ করে। ফ্লাইদুবাই নিশ্চিত করেছে যে সমস্ত যাত্রী ও ক্রু সদস্য নিরাপদে রয়েছেন এবং তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে।
ইজরায়েলি আধিকারিক এবং যাত্রীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনায় দুই পাইলটের মধ্যে হিংসাত্মক সংঘর্ষ হয়েছিল। কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছিল এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন। বিমানটি জরুরি সংকেতও পাঠিয়েছিল, যার মধ্যে বেআইনি হস্তক্ষেপের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি কোডও ছিল। এর ফলে সম্ভাব্য হাইজ্যাকিংয়ের আশঙ্কা তৈরি হয় এবং ইজরায়েল যুদ্ধবিমান পাঠায়। এরপর তাবুকের দিকে গতিপথ পরিবর্তনের আগে বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নেমে যায়।
যাত্রীদের বক্তব্যে বিমানের সামনের দিকে চিৎকার এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে।