Indus Water Treaty : ২৪ ঘণ্টাও কাটল না, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হুমকির (India Pakistan War) যোগ্য জবাব দিল ভারত। ফাঁস হয়ে গেল ইসলামাবাদের আসল উদ্দেশ্য। নয়াদিল্লি থেকে পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে (Khawaja Asif) ‘আয়না দেখাল’ বিদেশমন্ত্রক।
বাক-সংঘর্ষের সূত্রপাত, কী বলেছেন পাক মন্ত্রী
সম্প্রতি এআরওয়াই নিউজকে (ARY News) দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোয়াজা আসিফ বলেন, “যে মুহূর্তে আমরা বুঝতে পারব, আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে—আর জল আমাদের জাতীয় নিরাপত্তারই অংশ—আমরা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাব।” তবে এই বলেই থেমে থাকেননি পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ভারত যদি খুব দ্রুত জল সরবরাহ বন্ধ বা গতিপথ অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করে, তার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে পাকিস্তানের সামনে যুদ্ধ ছাড়া কোনও পথ থাকবে না।
পাল্টা কী বলেছে ভারত
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের ভারত-বিরোধী যুদ্ধ ও সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে দেওয়া হুমকির বিষয়ে ভারত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন,”নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে বিশ্বের থেকে দৃষ্টি সরাতে পাকিস্তান এই ধরনের বক্তব্য করে থাকে। ভারত এসব ভিত্তিহীন দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।” এছাড়াও তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) চলমান বিক্ষোভ ও পাকিস্তান সরকারের ভুল নীতিগুলোর দিকেও বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পাকিস্তান সরকারের বর্বরতা তুলে ধরল ভারত
নয়াদিল্লির তরফে রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা অঞ্চলগুলিতে চলমান বিক্ষোভ হল, কয়েক দশক ধরে চলে আসা সরকারি নীতিরই ফল। এসব নীতির মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ও প্রশাসনের দ্বারা সাধারণ নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন। এর জবাবে পাকিস্তান সরকার পুলিশি বর্বরতা, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের সরবরাহ বন্ধ রাখা, ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা ও নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পথ বেছে নিয়েছে।”
স্থগিতই থাকছে সিন্ধু জল চুক্তি
গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে হওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত (Abeyance) করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার ভারত পুনর্বার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যতদিন না পাকিস্তান ভারতের মাটিতে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ছড়ানো সম্পূর্ণ এবং বিশ্বাসযোগ্যভাবে বন্ধ করছে, ততদিন এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
আন্তর্জাতিক আদালতের রায় ‘অবৈধ’ ঘোষণা
গত মে মাসে (১৫ মে, 2026) সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে গঠিত তথাকথিত ‘কোর্ট অফ আরবিট্রেশন’-এর একটি রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল বলে ঘোষণা করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত কোনোদিনই এই বেআইনিভাবে গঠিত আদালতকে স্বীকৃতি দেয়নি, তাই এর কোনও রায় ভারতের ওপর প্রযোজ্য নয়। ভারতের স্পষ্ট বার্তা, ফাঁকা যুদ্ধের হুমকি না দিয়ে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের সীমান্ত থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করা ও নিজেদের দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা।
এক নজরে মূল সংঘাতের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি
| বিষয় | ভারতের অবস্থান | পাকিস্তানের অবস্থান |
| সিন্ধু জল চুক্তি (IWT) | পহেলগাম জঙ্গি হামলার পর চুক্তি স্থগিত। সন্ত্রাস বন্ধ না হলে আলোচনা নয়। | এককভাবে চুক্তি স্থগিত করা যায় না দাবি। জল আটকে দেওয়ার আশঙ্কা। |
| কোর্ট অফ আরবিট্রেশন | আদালতকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও এর রায়কে ‘শূণ্য’ (Null and Void) ঘোষণা। | বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার দাবি। |
| পিওকে (PoK) সংকট | অর্থনৈতিক শোষণ ও জনগণের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক জনবিক্ষোভ। | বলপ্রয়োগ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও দমনপীড়নের মাধ্যমে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা। |
আরও পড়ুন : ‘যে মুহূর্তে চাইব’… ফের ভারতকে যুদ্ধের হুমকি পাকিস্তানের, কী হতে চলেছে ?
West Bengal Budget News | সরকার গঠনের পর প্রথম বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্রে জোরালো নজর দিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার