Last Updated:
দুর্ঘটনা নয়, একেবারে ছক কষেই হবু স্বামী কেতন আগরওয়ালকে হত্যা করেছিলেন অভিযুক্ত সিয়া৷ নিজের প্রেমিকের সঙ্গে মিলে কীভাবে খুনের ফন্দি আঁটেন তিনি?
পুণে: পাহাড়ে ট্রেকিং করতে গিয়েছিলেন হবু স্বামী-স্ত্রী৷ ছবি তুলতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে খাদে, মৃত্যু প্রেমিকের৷ প্রাথমিকভাবে তেমনটাই জানিয়েছিলেন প্রেমিকা৷ কিন্তু তদন্ত গভীর হতেই ফাঁস ভয়ঙ্কর সত্যি৷ মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গের খাদে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়৷ তদন্তে প্রকাশ, দুর্ঘটনা নয় একেবারে ‘প্ল্যান’ মাফিক খুন করা হয়েছে ২৬ বছরের ব্যবসায়ী কেতন বিষাল আগরওয়ালকে৷ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন তাঁর হবু স্ত্রী সিয়া গোয়াল (২০) এবং সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরী (২২)।
পুলিশ সূত্রে খবর, আগামী নভেম্বরে কেতন ও সিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কেতনের বাবা মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী৷ সূত্রের খবর, ধুমধাম করেই কেতন এবং সিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল৷ এমনকি ১৭ কোটি টাকা দিয়ে রাজস্থানের উদয়পুরে একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদও বুক করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের অজান্তে দীর্ঘদিন ধরে চেতনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন সিয়া। সেই সম্পর্কের পথে কেতনকে বাধা মনে করেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, খুনের পরিকল্পনা একদিনে তৈরি হয়নি। জুন মাসের শুরুতে বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে যাওয়ার কথা ছিল কেতন-সিয়ার। অভিযোগ, সেই সফর বানচাল করতে কেতনের পাসপোর্ট চুরি করে ফেলে দেন সিয়া। এরপর বারবার কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, ৩১ মে প্রথমবার খুনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে ১৪ জুন একটি ভুয়ো সাপের আতঙ্ক তৈরি করে কেতনকে খাদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। তাতেও সফল না হওয়ায় ১৮ জুন জন্মদিন উদযাপনের অজুহাতে আবার দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর সিয়া দাবি করেছিলেন, ছবি তুলতে গিয়ে প্রবল হাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান কেতন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা এই ব্যাখ্যা মানতে রাজি হননি। তাঁদের দাবি ছিল, কেতন একজন অভিজ্ঞ ট্রেকার ছিলেন এবং দুর্গের ভৌগোলিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবেই জানতেন।
এরপরই তদন্তে নামে পুনে গ্রামীণ পুলিশ। মোবাইল ফোনের লোকেশন, ডিজিটাল তথ্য এবং সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকলাপ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, প্রতিবার ট্রেকিংয়ের সময়ই গোপনে আশপাশে উপস্থিত ছিলেন চেতন চৌধুরী। সেই প্রমাণের মুখে পড়ে দু’জনেই অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
বর্তমানে অভিযুক্ত দু’জন পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) অধীনে খুন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা মহারাষ্ট্রে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
Kolkata,West Bengal
