কলকাতা: কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে বারে বারেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একদিকে যেমন, বিজেপির প্রায় প্রত্যেক প্রার্থীর মুখেই শোনা গিয়েছে যে, কড়া নিরাপত্তায় নির্বাচন করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তেমনই তৃণমূল অভিযোগ এনেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী অত্যাচার করেছে সাধারণ মানুষদের ওপর। গতকাল, বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া ভিডিও বার্তায় তাঁকে শোনা গিয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী মারধর করেছে মহিলা ও শিশুদের ও! উদয়নারায়ণপুরে বুথে বৃদ্ধের মৃত্যুর মত ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছে তৃণমূল, দায় চাপানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। তবে এবার, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ডিউটি করতে এসে মৃত্যু হল মধ্যপ্রদেশের ১ পুলিশকর্মীর! অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল মধ্যপ্রদেশ পুলিশের ১ জন সাব-ইন্সপেক্টরের।
বাংলায় এসে মৃত মধ্যপ্রদেশের পুলিশকর্মী
জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ডিউটি করতে এসেছিলেন ওই মধ্যপ্রদেশের পুলিশকর্মী। ভোটের সময়ে, নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য রাজ্যের বাইরে থেকে প্রচুর পুলিশকর্মীকে নিয়ে আসা হয়। সেভাবেই নিয়ে আসা হয়েছিল, মধ্যপ্রদেশের ওই পুলিশকর্মীকে। পদমর্যাদায় তিনি সাব-ইন্সপেক্টর। মৃত পুলিশকর্মী মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা। তাঁর নাম শ্রীনিবাস সিংহ। আরও জানা গিয়েছে, বালি নিশ্চিন্দা গার্লস স্কুলের ভোটের দায়িত্বে ছিল ওই কর্মী। তবে কোনোরকম অশান্তির কারণে এই মৃত্যু হয়েছে, এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কিডনির অসুস্থতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওই পুলিশকর্মীর।
হাওড়ায় বৃদ্ধের মৃত্যু, নির্বাচন কমিশনের বিবৃতি
সম্প্রতিই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে, এমনই অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল। মৃতের পরিবারও দাবি করেছিলেন, বুথে জওয়ানদের ধাক্কায় পড়ে যান বৃদ্ধ! তবে, উদয়নারায়ণপুরের সাধারণ পর্যবেক্ষকের দাবি, ভোট দেওয়ার পরে, অসুস্থতার কারণে তিনি হঠাৎ ভোটকেন্দ্রের কাছে পড়ে যান। কিন্তু বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে অনুরোধ করা হয়েছে, এইরকম শোকের ঘটনাকে বিকৃত না করার জন্য। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘হাওড়ার ৮২ বছর বয়সী পূর্ণচন্দ্র দোলুই ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে উদয়নারায়ণপুরের বুথ নং ২৪৫-এ ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও, তিনি নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। তাঁর ছেলে তাঁকে সাহায্য করতে বুথের ভিতরে ইভিএম পর্যন্ত যেতে পেরেছিলেন। ভোট দেওয়ার পর,তিনি হঠাৎ ভোটকক্ষের কাছে অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা বয়সজনিত কারণে (সম্ভবত তাপজনিত অসুস্থতা)। তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের জেনারেল অবজারভার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি ভোট দেওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সেই সময় তাঁর ছেলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোনও ধাক্কা বা দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটেনি।