নয়াদিল্লি : ফের বিমান বিভ্রাট। মাঝ আকাশে বাতাসের তীব্র ঝাঁকুনি বা টার্বুলেন্সের কারণে উচ্চতায় আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ৩০০ ফুট নীচে নেমে গেল বিমান। মঙ্গলবার ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 বিমানে এই ঘটনা ঘটে। হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়ার ফলে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য আহত হন। পরে অবশ্য দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে বিমানটি। সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে নেমে এসেছেন। এমনই জানিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। এই ঘটনায় কেউ গুরুতর চোট পায়নি বলেও জানানো হয়েছে এয়ারলাইন্সের তরফে। যেসব আহতের চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল তাঁদের বিমানবন্দরের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত জুলাই মাসেই বড়সড় দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় দু’টি বিমান। মুম্বই বিমানবন্দরে একই রানওয়েতে এক্কেবারে মুখোমুখি হয়ে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের দুই বিমান। শেষ মুহূর্তে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা ATC-র নির্দেশে টেক-অফ রান শুরু করেও থেমে যায় দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। ফলে এড়ানো সম্ভব হয় সম্ভাব্য বিপর্যয়। এই বিমান নির্দিষ্ট সময় থামানো না-গেলে ভয়ঙ্কর বিপদ ঘটতে পারত। PTI সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ১০টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে মুম্বই বিমানবন্দরে। শিলিগুড়ি থেকে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানটি অবতরণের পর তখনও রানওয়ে পুরোপুরি ছাড়েনি। সেই সময় একই রানওয়ে থেকে দিল্লির উদ্দেশে ওড়ার জন্য তৈরি ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমান। দুই বিমান একই রানওয়েতে বিপজ্জনক অবস্থানে চলে আসায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল দ্রুত দিল্লিগামী বিমানটিকে টেক-অফ বাতিল করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ পাওয়ার পরই বিমানটির পাইলট ‘টেক-অফ রান’ বন্ধ করেন। এরপর বিমানটি ফিরে যায় নির্ধারিত বে-তে।
গত জুন মাসে দিল্লি থেকে পঞ্জাব যাওয়ার পথে পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান। বিষয়টি সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়। জানা যায়, আন্তর্জাতিক সীমানা পেরনোর পর পাকিস্তানের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বিমানটিকে। তার পর ফের ভারতের আকাশে ফিরে আসে বিমানটি। এয়ার ইন্ডিয়ার AI 479-এর Airbus A321 দিল্লি ছাড়ে রাত ৯টা বেজে ১৮ মিনিটে। অমৃতসরের শ্রী গুরু রামদাসজী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দের নামার কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু সেখানে না নেমে, আন্তর্জাতিক সীমান্তের দিকে ধেয়ে যায়। পাকিস্তানের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে।