Last Updated:
নেপালে তুষারধসের জেরে বেস ক্যাম্প থেকে ১০ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি টানা বৃষ্টি ও তুষারপাতের জেরে একাধিক এলাকায় ভূমিধস নেমেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা।
কাঠমান্ডু: ফের প্রকৃতির রোষে নেপাল। এবার তুষার ধসে ফের বিধ্বস্ত নেপাল। হিমালয়ের কোলে থাকা এই দেশের উপর থেকে প্রকৃতির রোষ যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। রবিবার, পশ্চিম নেপালের হিমলাং হিমালের বেস ক্যাম্পে তুষার ধসে ১০ জন নিখোঁজের খবর পাওয়া গিয়েছে। তুষার ধসের পাশাপাশি এক নাগাড়ে বৃষ্টি এবং ভারী তুষারপাতের ফলে ফের ভূমিধস এবং বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই বেস ক্যাম্প থেকেই অভিযানকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, প্রায় ১০ জন এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন।
এই অভিযানের উদ্যোক্তা মিংমা গাইলজে শেরপা নিশ্চিত করেছেন তার দলের দুইজন সদস্য নিখোঁজ।এই প্রসঙ্গে তিনি এএনআই-কে জানান, “রবিবার সকালে তুষার ধস নামে।”
প্রসঙ্গত, একটানা তুষারধসের পরে রবিবার সকালে হঠাৎ-ই গোটা এলাক্য তুষার ধস নামে। আর সেই সময়ে বহু পর্বতারোহী সেখানে ছিলেন। তুষার ধসের কারণে পর্বতারোহণ বন্ধ রাখলেও প্রচণ্ড তুষার ধসে নিখোঁজ হয়ে যান ১০ জন।
শেরপা আরও জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে আবহাওয়া খারাপ হতে পারে এই খবর পাওয়ার পর থেকেই বহু পর্বতারোহী নীচে নেমে এসেছিলেন। কিন্তু, অনেকে উপরে রয়ে যান। হিমলাং হিমাল পর্বতারোহীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু, এই তুষার ধসের ফলে উদ্ধারকাজও ব্যাহত হচ্ছে।
নেপালে একনাগাড়ে বৃষ্টি, টানা তুষারপাতের মাঝেই এই তুষার ধস নতুন করে সমস্যা বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। এএনআই সূত্রে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার থেকেই আবহাওয়া আরও খারাপ হতে শুরু করেছে। টানা বৃষ্টির ফলে গত বৃহস্পতিবার ফের বন্যার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় নেপালে। বেশ কিছু বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার খবর সামনে আসে।
লুম্বিনি অঞ্চলের রূপানদেহি জেলায় তিনাউ নদীর জল ছ’টি বাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, নদীর পাশের ২০০টি বাড়ি ইতিমধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ইতিমধ্যেই ওই এলাকা থেকে ১ হাজার জন থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু, এক নাগাড়ে বৃষ্টির ফলে কার্যত ফুঁসছে তিনাও নদী। এর মাঝেই এই তুষার ধস বিপদ আরও বাড়াল বলেই মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
