সংবাদসংস্থা এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে এই ফলাফল। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবে ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টনের কাছে পরাজিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামী।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর মনে হয়েছে, আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পিছনে ইরান যুদ্ধেরও ভূমিকা রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্টের কাছে বড় ধাক্কা দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয়, এর পিছনে ইরান যুদ্ধেরও কিছুটা ভূমিকা ছিল। তবে একই সঙ্গে মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে আমি যে পদক্ষেপ করেছি, তার গুরুত্বও বুঝতে পেরেছেন। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদক্ষেপ আজকের সন্ধ্যার ঘটনার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বিশ্বের এক নম্বর দেশকে কোনওভাবেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া যায় না।”
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে তেহরানের ‘জয়’ হিসেবে দাবি ইরানের আধিকারিকদের:
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যকে ইরানের জয় হিসেবে তুলে ধরছেন ইরানের আধিকারিকরা। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ওয়াশিংটনকে নিজেদের স্বার্থেই পদক্ষেপ করতে হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, মার্কিন সরকার যদি জনসাধারণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যায়, তাহলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তেহরানের দাবি, ইজরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্যই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে আমেরিকা।
এছাড়াও, দক্ষিণ ক্যারোলিনায় দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান নেতা লিন্ডসে গ্রাহামের সেনেট আসনও ডেমোক্র্যাটদের দখলে এসেছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ২০২৬: ডেমোক্র্যাটরা কি মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে চলেছে?
হ্যাঁ। এএফপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকানদের বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে এই ফলাফল।
কেন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এই পরাজয় বড় ধাক্কা?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে লক্ষ লক্ষ আমেরিকান ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এই নির্বাচনের ফলাফল ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার শেষ দুই বছরের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।
এই নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের উপর গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনীতি পরিচালনা, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, অভিবাসন এবং ইরানের সঙ্গে চলতে থাকা সংঘাতের মতো বিষয়গুলিতে তাঁর ভূমিকা বিবেচনা করেই ভোট দিয়েছেন আমেরিকার নাগরিকরা।
প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি, ৩৬টি রাজ্যে গভর্নর পদেও নির্বাচন হচ্ছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে নেট তিনটি এবং সেনেটে নেট চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন।
২০২৬ সালের মার্কিন সেনেট নির্বাচনের ফলাফল কবে ঘোষণা করা হবে?
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ৩৫টি সেনেট আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি রাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের রাতেই ভোট গণনা চলবে এবং প্রয়োজনে তার পরেও তা অব্যাহত থাকতে পারে।
বর্তমানে সেনেটে ৫৩-৪৭ আসনের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে ডেমোক্র্যাটদের নেট চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন।
নজর যে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলির দিকে:
সেনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করতে পারে এমন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের দিকে নজর রয়েছে। উল্লেখযোগ্য নির্বাচনী লড়াইয়ের কেন্দ্রগুলির মধ্যে রয়েছে টেক্সাস, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, মেইন, মিশিগান, আইওয়া, ওহাইও, আলাস্কা এবং কানসাস। ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যগুলিতে আসন বাড়ানোর লক্ষ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, নিজেদের বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ আসন ধরে রাখার চেষ্টা করেছে রিপাবলিকানরা।
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে কী অর্থ বহন করছে?
কংগ্রেসের যে কোনও একটি কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয় হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো, সরকারের নীতিগুলি খতিয়ে দেখা এবং ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের কর্মসূচির একাংশ আটকে দেওয়ার ক্ষেত্রে দলটির ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা যদি কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে, তাহলে নিজেদের অগ্রাধিকারগুলি বাস্তবায়নের পথে ট্রাম্পের সামনে আরও স্পষ্ট সুযোগ তৈরি হবে।
ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণাধীন কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনও আইনেও ভেটো প্রয়োগ করতে পারেন বলে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
নির্বাচনে কে জয়ী হল, তা কখন জানা যাবে?
আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ভোট গণনা চলছে। বিভিন্ন টাইম জোনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রাথমিক ফলাফল সামনে আসতে শুরু করেছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেশ কয়েকটি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সেনেটের যে আসনগুলিতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে, সেগুলির ফলাফল নির্ধারণে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
বিশেষ করে যেসব আসনে প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান খুব কম অথবা ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের গণনা এখনও চলছে, সেগুলির ফলাফল জানতে কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে।
তাই নির্বাচনের দিন শেষ হওয়ার পরপরই কংগ্রেসে ক্ষমতার চূড়ান্ত ভারসাম্য কোন দিকে থাকবে, তা স্পষ্ট নাও হতে পারে।