ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita বা BNS), ২০২৩-এ এমন কোনও পৃথক ধারা নেই, যেখানে শুধুমাত্র গালিগালাজ করাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে কোনও ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অপমানজনক মন্তব্য করেন, যার উদ্দেশ্য বা সম্ভাব্য ফল জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ, হিংসা বা অন্য কোনও অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া হয়, তাহলে তা আইনের আওতায় আসতে পারে।
BNS-এর ধারা ৩৫২ অনুযায়ী, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কাউকে অপমান করেন এবং সেই অপমানের ফলে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অন্য কোনও অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এখানে শুধুমাত্র অশালীন শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি নয়, বরং সেই বক্তব্যের উদ্দেশ্য এবং তার সম্ভাব্য পরিণতিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এই ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অথবা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
যদি গালিগালাজের সঙ্গে কারও জীবন, সম্পত্তি বা সুনামের ক্ষতির হুমকি যুক্ত থাকে, তাহলে BNS-এর ধারা ৩৫১ প্রযোজ্য হতে পারে।
এই ধারায় কারও মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা বা তাকে কোনও কাজ করতে বা না করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে হুমকি দেওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছর থেকে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
যদি কোনও ব্যক্তি সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগ বা তথ্য প্রকাশ করে তাঁর সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়, তাহলে সেটি BNS-এর ধারা ৩৫৬ অনুযায়ী মানহানি (Defamation) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে কোনও বক্তব্য মানহানিকর কি না, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ঘটনার তথ্যপ্রমাণ এবং আদালতের বিচার-বিশ্লেষণের উপর।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র কটু ভাষা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফৌজদারি অপরাধ হয় না। আদালত প্রতিটি ক্ষেত্রে বক্তব্যের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য, বক্তব্যের সম্ভাব্য প্রভাব এবং জনশৃঙ্খলার উপর তার প্রভাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ, একই ধরনের ভাষা এক পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে, আবার অন্য পরিস্থিতিতে নাও হতে পারে।