নয়াদিল্লি: সংসদে বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই কি নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল ঘটে যাবে? নাকি বাদল অধিবেশনের ঘটবে রদবদল? গত কয়েক দিন ধরেই সেই নিয়ে জোর চর্চা চলছে। তবে সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভায় রদবদলের চেয়ে আপাতত গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর উপর জোর দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে আলোচনায় বেশ কিছু নাম ঘুরে ফিরে উঠে আসছে। (Modi Cabinet Reshuffle)
জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সংসদে বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ২০ জুলাই থেকে বাদল অধিবেশন শুরু হতে পারে। আর তাই মন্ত্রিসভার রদবদল সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ পিছিয়ে যেতে পারে বলে দিল্লি সূত্রে খবর। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিল কী ভাবে সংসদে পাস করিয়ে নেওয়া যায়, এই মুহূর্তে তার উপর জোর দিচ্ছে সরকার। (Cabinet Reshuffle News)
কেন্দ্র যে বিলগুলি পাস করাতে চায়, সেই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল সীমানা পুনর্বিন্যাস বিল, এক দেশ এক নির্বাচন বিল। বাদল অধিবেশনের আগে মন্ত্রিসভায় রদবদল ঘটালে বাদ পড়া লোকজন ক্ষুণ্ণ হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালের ৭ জুলাই সংসদের অধিবেশনের আগেই মন্ত্রিসভায় রদবদল করা হয়েছিল। তবে সেই সময় পরিস্থিতি আলাদা ছিল। সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল তাদের। কিন্তু ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসন কমেছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই কোনও কক্ষেই, না লোকসভায়, না রাজ্যসভায়। যদিও গত কয়েক দিনে রাজধানীর রাজনীতিতেও অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল, শিবসেনার মতো বিরোধী দলগুলিই। তাই শেষ মুহূর্তে মন্ত্রিসভায় রদবদল হলেও হতে পারে বলে জল্পনা।
রাজ্যসভায় মেয়াদ ফুরনোর পর সম্প্রতি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন জর্জ কুরিয়েন। এতদিন সংখ্যালঘু মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সংসদের দুই কক্ষের একটিরও সদস্য না হয়ে মন্ত্রিত্বে রয়েছেন রবনীত সিংহ। পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই তাঁকে পদে রাখা হয়েছে বলে খবর। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীকে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে বিজেপি-র সভাপতি করা হয়েছে। আর এক প্রতিমন্ত্রী হর্ষ মালহোত্রকে সভাপতি করা হয়েছে দিল্লি বিজেপি-র। তাঁদের সরিয়ে লোকজনকে পদে বসানো হতে পারে। তবে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচনের আগে পঙ্কজকে সরানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বিজেপি-র জন্য উত্তরপ্রদেশে কুড়মি সমাজে বেশ প্রভাব তাঁর। প্রাক্তন আমলাদের মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত করার কথাও শোনা যাচ্ছে। নাম উঠে আসছে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বর্তমান গভর্নর শক্তিকান্ত দাসেরও।
আরও পড়ুন: সন্তান চান নায়ক, মা হতে অনীহা নায়িকার, বিয়ে ভাঙছে তারকাদম্পতির
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কার কেমন পারফর্ম্যান্স, তা নিয়ে মে মাসে জরুরি বৈঠক হয়। বর্তমানে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের বয়স এখনও ৫০-এর নীচে। মন্ত্রিসভাতেও তুলনামূলক কম বয়সিদের আনা হতে পারে। আবার এমন আটজন মন্ত্রী রয়েছেন, যাঁদের বয়স ৭০-৮০-র কোটায়। রাজ্যসভায় হরদীপ সিংহ পুরী এবং বিল এল বর্মার মেয়াদ গেই শেষ হয়ে গিয়েছে। ওই জায়গা নতুনদের আনা হতে পারে বলে জল্পনা। ২০২৯ সালে থেকে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ভাবনা কেন্দ্রের। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় একমাত্র মহিলা মন্ত্রী নির্মলা সীতারামনই।
Abhishek Banerjee : DJ-মামলায় আজ ভয়েস টেস্ট, হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, আজই শুনানির সম্ভাবনা