কলকাতা: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Banerjee) চলে গিয়েছেন বড্ড অকালেই। তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে, সমুদ্রের জলে তলিয়ে যান রাহুল, বাঁচানো যায়নি তাঁকে। জনপ্রিয় অভিনেতার মৃত্যুর পরে বেশ কয়েকটা মাস পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু হঠাৎই আলোচনায় উঠে এসেছে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। রাহুল এবং প্রিয়ঙ্কা সরকারের (Priyanka Sarkar) স্বপ্নের মতো প্রেম, তারপরে বিয়ে এবং পরে বিচ্ছেদ… ছেলে সহজের জন্যই ফের সম্পর্ক স্বাভাবিক করে নিতে চেয়েছিলেন রাহুল প্রিয়ঙ্কা। তবে হাতে সময় যে এতটা কম ছিল, তা যেন বুঝতে পারেননি কেউই। কিন্তু হঠাৎ, রাহুলের সঙ্গে চর্চায় উঠে এল, অন্য এক অভিনেত্রীর নাম! তিনি মৌমিতা পন্ডিত (Moumita Pandit)। সদ্যই একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, রাহুলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর। তাঁরা সেই সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনবেন, এমন ও ভেবেছিলেন, তবে তার আগেই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা।
এই কথা বলার পর থেকেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় চূড়ান্ত ক্ষোভের সম্মুখীন হন মৌমিতা, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই ক্ষোভ উগরে দেন তাঁর বিরুদ্ধে। অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী (Sudipta Chakraborty) থেকে শুরু করে, পরিচালক রাতুল মুখোপাধ্যায়, মানসী সিংহ ও মৌমিতাকে কটাক্ষ করেছেন। এই বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটা দিন, একেবারেই চুপ ছিলেন মৌমিতা, অবশেষে তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেই মুখ খুললেন। একটি লম্বা পোস্ট করে মৌমিতা জানালেন রাহুল ও তাঁর সম্পর্ক নিয়ে করা তাঁর মন্তব্য এবং, তাঁর আবেগ, তাঁর তরফের সমস্ত কথা।
রাহুলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের পরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মৌমিতার খোলা চিঠি
মৌমিতা লিখছেন, ‘ডিয়ার অল.. আপনারা/ তোমরা যখন সবাই নিজে নিজেই জেনে নিলেন আমি ভিডিও পোস্ট করে মিথ্যে খবর করেছি জনপ্রিয় হওয়ার জন্যে! আমি ভিডিও কোথায় পোস্ট করে কিভাবে খবর করেছি একটু জানালে আমার সুবিধে হত বুঝতে , আসলে আপনারাও জানেন না , একটা খবরে একটা ভিডিও আর আমার দুটো কথা শুনেই নিজের মতো গল্প তৈরি করে নিলেন , তারপর আমাকে যেভাবে আক্রমণ করা শুরু করলেন সকলে … যারা চেনে না তারা করুক। যারা আমাকে চেনে জানে, যারা দেখেছে তারা একবার আমাকে জিজ্ঞেস করল না, কারণ আমার বিরুদ্ধে আগে পোস্ট লেখাটা দরকারি ছিল , আসল সত্য জানার আগেই পোস্টটা লিখে ফেলতে হবে, আমাকে যাতে সস্তা বাজারি মিথ্যেবাদী ধান্দাবাজ ফুটেজখোর নোংরা মহিলা , জালি, অসভ্য, আরও কত কী বিশেষণ দেওয়া যায় তার জন্যে সিনিয়রদের ও অবদান রইল। ধন্যবাদ। দিদিরা দাদারা তোমরা ওই তিন বাঁদর এর মতো করে দিলে নিজেদেরকে। কিন্তু কেন?’
মৌমিতা আরও লিখেছেন, ‘যারা আমাকে এতদিন ধরে সামলে গেলে তারা আজকে এই ঘটনা ঘটার পর আমাকে জানতে এলে না, কেন কীভাবে হ্যান্ডেল করছি ? আর যারা সত্যি টা জানো তারা অন্যদের কে জানাচ্ছ না কেনো ভুল লিখছে তারা …. সবাই চুপ। মজা নিচ্ছে। তোমরাও থামাতে পড়তে চাইলে এটা । চাইলে না কেনো ? ” সিনিয়র ” হিসেবে মনে হলো না এটা থামানো উচিত? আমি মিথ্যে প্রেম প্রমোট করছি , কীভাবে? কোথায়? বেশ তাহলে নিজেকে এই নোংরামো থেকে বাঁচতে গিয়ে সত্যিটা প্রকাশ করলে, সেটা তাঁর ও তাঁর পরিবারের জন্যে ঠিক হতো তো?’